জনশুমারির (Census) একাধিক পর্যায়ের সরকারি তথ্যের সঙ্গে মিলছে না গণনাকারীদের প্রাথমিক তথ্য, 'ফিল্ডওয়ার্ক' সংক্রান্ত পরিসংখ্যান। বিশেষ করে প্রকাশ্যে শৌচকর্ম সংক্রান্ত, বিদ্যুৎ পরিষেবা রান্নার গ্যাস পরিষেবা প্রদান সংক্রান্ত পরিসংখ্যানে। আর তাই সেই 'অসঙ্গতি' দূরীকরণে ফের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য পুনর্বিবেচনা, যাচাই এবং 'ভুল সংশোধন' করতে 'সিনিয়র'দের তরফে তাঁদের কাছে নির্দেশ এসেছে বলেই দাবি গণনাকারীদের।
সাধারণত এই গণনাকারীদের দলে রয়েছেন সরকারি স্কুলশিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা। তাঁরাই এই তথ্য অসঙ্গতি নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় জানিয়েছিলেন। তার পর ২ জুন ডিরেক্টর অফ সেনসাস অপারেশনস, রাজস্থান জেলাস্তরের সমস্ত সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের তা জানান। আর সেখানেই নির্দেশ দেওয়া হয় তথ্য যাচাইয়ের। সিএমএমএস (সেনসাস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড মনিটরিং সিস্টেম) পোর্টাল মারফত ব্লক-স্তরে, সংগৃহীত তথ্য পুনরায় পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে গণনাকারীদের।
কিন্তু এই তথ্য অসঙ্গতির কারণ কী? গণনাকারীদের দাবি, সরষের মধ্যেই রয়েছে ভূত। যেমন, সংবাদমাধ্যমকে এক গণনাকারী জানিয়েছেন, "তথ্য সংগ্রহে গিয়ে যদি মোবাইল অ্যাপে লিখি যে একটি বাড়িতে টিনের ছাদ রয়েছে, তখন সিনিয়ররা আমাদের বলেন, বদলে কংক্রিটের ছাদ লিখতে। আমরা কি তা করতে পারি? আবার কোনও বাড়িতে হয়তো শৌচাগার নেই। বাড়ির বাসিন্দারা প্রকাশ্যে মলমূত্র ত্যাগ করেন। কিন্তু সিনিয়ররা তখন আমাদের বলেন, গিয়ে দেখতে, সে বাড়ির কাছাকাছি কোনও শৌচাগার আছে কি না। বা সেই বাড়ির বাসিন্দারা পড়শিদের বাড়ির শৌচাগার ব্যবহার করছেন কি না। যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তা হলে আমাদের তথ্যে লিখতে হয়, ওই বাড়িতে শৌচাগার আছে।" আবার উত্তরপ্রদেশের এক গণনাকারীর মন্তব্য, "যেহেতু আমরা সরকারি কর্মচারী, তাই আমাদের জানানো হয়েছে, কোনওভাবেই যেন আমরা এমন কিছু তথ্য না দিই, যাতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়।”
