shono
Advertisement

Breaking News

Independence Day 2026 PM Speech

যুদ্ধ আবহে চরমে জ্বালানি-জ্বালা! '২০৪৭-এ বিকশিত ভারত গড়বই', লালকেল্লায় 'আত্মনির্ভরতা'র বার্তা মোদির

'গত ১২ বছরে নতুন গতি পেয়েছে ভারত', জানালেন প্রধানমন্ত্রী।
Published By: Biswadip DeyPosted: 08:06 AM Aug 15, 2026Updated: 08:26 AM Aug 15, 2026

২০৪৭ সালে বিকশিত ভারত গড়ার সংকল্প প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি জানালেন, ‘‘আজকের ভারত নতুন স্বপ্ন দেখছে। বড় স্বপ্ন দেখার সময় এসেছে। গত ১২ বছরে দেশের কোটি কোটি মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করে চলেছি।" এই মুহূর্তে যুদ্ধে জর্জরিত গোটা বিশ্বই। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ আবহে চরমে জ্বালানি-জ্বালা! সেই সময়ে দাঁড়িয়ে এমনই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী।

Advertisement

এদিন তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘‘ছোট স্বপ্ন দিয়ে আর চলবে না। আমাদের বড় স্বপ্ন দেখতে হবে। কারণ বড় স্বপ্ন আমাদের চিন্তার পরিধিকে প্রসারিত করে। গত ১২ বছরে, অগণিত নাগরিক, তিনি দলিত হোন কিংবা নির্যাতিত বা প্রান্তিক, গ্রামীণ হোন বা শহুরে বাসিন্দা, দরিদ্র বা মধ্যবিত্ত, যুবক বা বর্ষীয়ান, নারী বা পুরুষ, উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব বা পশ্চিম— সকলেই অটল সংকল্প ও নিষ্ঠার সঙ্গে জাতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য সম্ভাব্য সব উপায়ে প্রচেষ্টা চালিয়েছে। আমি এই প্রচেষ্টাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্বীকার করি।''

‘‘ছোট স্বপ্ন দিয়ে আর চলবে না। আমাদের বড় স্বপ্ন দেখতে হবে। কারণ বড় স্বপ্ন আমাদের চিন্তার পরিধিকে প্রসারিত করে।''

সেই সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘একটা জাতি তখনই মহান হয়ে ওঠে এবং নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করে, যখন তারা স্বপ্ন, দৃঢ় সংকল্প ও নিজস্ব অন্তর্নিহিত শক্তির তাড়নায় সামনের দিকে এগিয়ে যায়। আমাদের সংকল্প হতে হবে অটল; সংকল্প যখন দৃঢ় হয়, তখন প্রতিকূলতা ও বিপর্যয়ের মাঝেও এগিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজে বের করার সক্ষমতা আপনা-আপনিই গড়ে ওঠে...'' 

তাঁর কথায় উঠে আসে ২০৪৭ সালের কথা। আগেই যে লক্ষ্যমাত্রা তিনি বেধে দিয়েছিলেন 'বিকশিত ভারত' গড়তে, সেকথাই আরও একবার স্মরণ করালেন প্রধানমন্ত্রী। আর সেকথা বলতে গিয়ে গত ১২ বছরের কাজের খতিয়ানও দিলেন তিনি। মনে করালেন, নতুন সংকল্পের সঙ্গে এগিয়ে চলছে দেশ। এই সময়সীমায় দারিদ্রসীমার বাইরে চলে গিয়েছেন ২৫ কোটি মানুষ। আর এই ১২ বছরেই দ্রুততম উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশ হয়ে উঠেছে ভারত। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে উৎপাদন ৪ গুণ বেড়েছে বলেও জানান তিনি। সেই সঙ্গে মনে করিয়ে দেন, উৎপাদন ক্ষেত্রে আরও এগিয়ে যেতে হবে। জানান, ছোট কলকবজা থেকে বড় পণ্য তৈরি করতে হবে। পণ্য়ের গুণমানে কোনও আপস নয়। 

‘‘একটা জাতি তখনই মহান হয়ে ওঠে এবং নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করে, যখন তারা স্বপ্ন, দৃঢ় সংকল্প ও নিজস্ব অন্তর্নিহিত শক্তির তাড়নায় সামনের দিকে এগিয়ে যায়।''

মোদি বলেন, ‘‘আত্মনির্ভর ভারত হয়ে ওঠা অত্যন্ত জরুরি। ভারতকে আর অন্য দেশের ওপর নির্ভর করে থাকা চলবে না, আমাদের স্বনির্ভর হতে হবে নিজেদের স্বার্থরক্ষা করতে হবে। এই সংকল্প নিয়ে আমরা 'আত্মনির্ভর ভারত'-এর পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে চলেছি। প্রতিটি ভারতীয় 'মেক ইন ইন্ডিয়া', 'স্বদেশি' এবং 'লোকাল ফর লোকাল'-এর মতো উদ্যোগগুলোর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। ''

প্রধানমন্ত্রী মোদী আরও বলেন, ‘‘আজকের ডিজিটাল ও প্রযুক্তি-নির্ভর বিশ্বে চিপ-এর গুরুত্ব অপরিসীম। ইলেকট্রনিক পণ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম কিংবা পরিবহন ব্যবস্থা—সবক্ষেত্রেই চিপ অপরিহার্য। এগুলো ছাড়া বিশ্বব্যবস্থা অচল হয়ে পড়বে। ভারত এই খাতে স্বনির্ভরতার পথে এগিয়েছে। ইতিমধ্যেই তিনটি বড় সেমিকন্ডাক্টর কারখানা স্থাপিত হয়েছে এবং আমাকে জানানো হয়েছে যে, রপ্তানির উদ্দেশ্যে এসব কারখানায় উৎপাদনও শুরু হয়ে গেছে। আগামী ৭-৮ বছরের মধ্যে আরও পাঁচটি থেকে আটটি সেমিকন্ডাক্টর কারখানায় খুব শীঘ্রই কার্যক্রম শুরু হতে চলেছে..."

‘‘আত্মনির্ভর ভারত হয়ে ওঠা অত্যন্ত জরুরি। ভারতকে আর অন্য দেশের ওপর নির্ভর করে থাকা চলবে না, আমাদের স্বনির্ভর হতে হবে নিজেদের স্বার্থরক্ষা করতে হবে।''

এদিন তাঁর ভাষণে বিরোধীদেরও বিঁধতে দেখা যায় মোদিকে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘অনেকে বলছেন ইউক্রেনে যুদ্ধ হচ্ছে। গ্যাস পাবেন না। পেট্রল পাম্পে তেলও পাবেন না। কিছু লোকের আনন্দ হচ্ছিল দেশবাসীকে ভয় দেখিয়ে। কৃষকদের ভয় দেখানো হচ্ছে ইউরিয়া পাবেন না। কিন্তু যাতে কারও কোনও সমস্যা না হয়, সেজন্য ভারত প্রস্তুত ছিল।"

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement