একসময় বিশ্বমঞ্চে ভারতের অর্থনীতি ছিল ‘ভঙ্গুর পাঁচ’-এর তালিকায়। আজ সেই ভারতই বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের তকমা পেয়েছে। শনিবার স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার ভাষণে দেশের অর্থনীতির বদলের এই ছবিই তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ‘ফ্র্যাজাইল ৫’-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি নিশানা করলেন কংগ্রেসকে। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ১২ বছরে ভারত বিশ্বের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
কিন্তু কী এই 'ফ্র্যাজাইল ৫'? কেন ভারতকে এই দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল? ২০১৩ সালে গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্ক 'মরগান স্ট্যানলি' এই শব্দবন্ধটি প্রবর্তন করে। বাহ্যিক অর্থনৈতিক অভিঘাতের মুখে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত পাঁচটি দেশের অর্থনীতিকে বোঝাতে এটি ব্যবহৃিত হয়েছিল। এই তালিকায় ভারত ছাড়াও ছিল ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিক এবং তুরস্ক। ইউপিএ আমলে ভারতের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে ২০১৪ সালের পরবর্তী প্রবৃদ্ধির পার্থক্য তুলে ধরতে মোদি এবং বিজেপি প্রায়ই এই প্রসঙ্গ তুলে ধরে। ২০১৪ সালের আগে ভারত মুদ্রাস্ফীতি, কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ঘাটতি, টাকার দামে পতন এবং বিদেশি পুঁজির উপর নির্ভরতার মতো সমস্যাগুলোর ভারে জর্জরিত ছিল।
২০১২ সালে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ঘাটতি জিডিপির ৫.১ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছিল। সহজ বাক্যে এর অর্থ হল - রপ্তানি থেকে অর্জিত আয়ের চেয়ে আমদানি বাবদ ভারতের ব্যয় ছিল অনেক বেশি। শনিবার স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার ভাষণে মোদি এই পুরনো অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলেই কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় তোলেন। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে মোদির শাসনে ভারত 'ফ্র্যাজাইল ফাইভ'-এর তালিকা থেকে বেরিয়ে আসে। কারণ, এ সময় দেশের বাহ্যিক ভারসাম্য উন্নত হয় এবং বৈদেশিক মুদ্রা ভাণ্ডারও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এমনকী আইএমএফ ঘোষণা করেছিল, উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলির মধ্যে ভারত সবচেয়ে নাটকীয় ও দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর নজির স্থাপন করেছে।
