পহেলগাঁও হামলার পরই সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত করে ভারত। নয়াদিল্লি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, রক্ত আর জল একসঙ্গে বইতে পারে না। এই সংঘাত আবহেই এবার লাদাখে সিন্ধু নদীর প্রথম পাথরের বাঁধ নির্মাণ করল ভারত। জানা গিয়েছে, লেহ থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে উপশি এলাকায় এই বাঁধটি তৈরি হয়েছে। এর প্রধান লক্ষ্য হল লাদাখের কৃষি এবং সেচ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা। তবে ভারতের এই পদক্ষেপে স্বাভাবিকভাবেই চিন্তিত ভারত।
সিমেন্টের ব্যবহার না করেই নদীর আড়াআড়িভাবে বড় বড় পাথর বসিয়ে প্রাকৃতিকভাবে এই বাঁধটি তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে নদীর জলস্তর প্রায় ১০ ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। এই জল ‘ইগু ফে’ খালের মাধ্যমে কৃষি জমিতে সরবরাহ হচ্ছে। এর ফলে এই এলাকার কৃষকদের দীর্ঘদিনের একটা বড় সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করা হচ্ছে। আসলে বসন্তে কালে চাষের সময় সিন্ধু নদীর জলস্তর কমে যাওয়ায় পাম্পের সাহায্যে জল তোলা কঠিন হয়ে পড়ে; বিশেষ করে যে সব এলাকায় নদীটি গভীর গিরিখাতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়, সেখানে এই সমস্যা প্রকট। এর ফলে চাষাবাদের জন্য পর্যাপ্ত জল পেতে খেতে হয় কৃষিকদের। জানা গিয়েছে, নতুন এই বাঁধটি লম্বায় ২০০ ফুট। এর জল ধারণক্ষমতা প্রায় ৪ কোটি লিটার। এই জল গ্রামের কৃষিজমিগুলিতে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। ফলে সুবিধা হবে কৃষকদের।
বলে রাখা ভালো, সম্প্রতি নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগের আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত রায় দেয় - পাকিস্তানের সঙ্গে হওয়া সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি ভারতকে মেনে চলতে হবে। কিন্তু সেই রায় খারিজ করে দেয় নয়াদিল্লি। তারপরই চাপে পাকিস্তান। এই পরিস্থিতিতে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসতে আগ্রহী ইসলামাবাদ। এসবের মাঝেই লাদাখে সিন্ধু নদীর উপর ভারতের বাঁধ নির্মাণের খবরটি প্রকাশ্যে এল।
