মহাকাশ গবেষণায় ভারতের সাফল্যের মধ্যেই ইসরোর বেসরকারিকরণ নিয়ে চিন্তিত সংস্থার ন'টি কর্মচারী সংগঠন। ইসরোর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলে কর্তৃপক্ষকে চিঠিও দিয়েছিল তারা। মহাকাশ গবেষণার বেসরকারিকরণ নিয়ে সরকারি নীতি কী, তা-ও জানতে চায় তারা। এই অবস্থায় আসরে নামল ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। বেসরকারিকরণের জল্পনা খারিজ করল ইসরো।
বেসরকারি সংস্থার জন্য মহাকাশ গবেষণার দরজা ছ’বছর আগেই খুলে দিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। প্রশ্ন উঠছিল, এবার ইসরোর ভবিতব্য কী? এই সংস্থা কি আর গবেষণা চালাবে? মহাকাশে যান পাঠাবে? কর্মীদেরই বা কী পরিণতি হবে? উদ্বেগ প্রকাশ করে ইসরোর চেয়ারম্যান ভি নারায়ণনকে চিঠি দেয় কর্মীদের ৯টি সংগঠন। যাবতীয় উদ্বেগ উড়িয়ে রবিবার ইসরো বার্তা দিল, ইসরোর স্পষ্ট বার্তা, "আমরা অত্যন্ত পরিষ্কার ভাষায় জানাতে চাই যে, ইসরোকে কোনওদিন বেসরকারিকরণ করা হবে না এবং এর গুরুত্বও এতটুকু কমানো হবে না।"
সংস্থার বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, "মহাকাশ গবেষণায় বেসরকারি ক্ষেত্রের অংশগ্রহণ মানে কিন্তু ইসরোর ভূমিকা ছোট করা নয়। বরঞ্চ এর ফলে ইসরো তাদের বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি শক্তিকে আগামী দিনের জটিল ও ভবিষ্যৎমুখী মহাকাশ কর্মসূচিতে আরও বেশি করে নিয়োজিত করতে পারবে। অন্যদিকে, তৈরি হয়ে যাওয়া পুরনো বা পরিচিত প্রযুক্তিগুলির গণ-উৎপাদন ও বাণিজ্যকরণের দায়িত্ব সামলাবে বেসরকারি শিল্পক্ষেত্র।" সংস্থাটি আরও যোগ করে, "যা পরিবর্তন হচ্ছে তা কিন্তু ইসরোর গুরুত্ব নয়, বদলে যাচ্ছে ভারতের মহাকাশ ব্যবস্থার পরিকাঠামো ও তার কাজের পরিধি।"
বিগত বেশ কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা ক্ষেত্রে উজ্জ্বল ও ব্যতিক্রমী ভূমিকা নিয়েছে ‘ইসরো’। চন্দ্রযান, মঙ্গলযান অভিযানে সাফল্য আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার মর্যাদা বাড়িয়েছে। কিন্তু সাফল্যের মাঝেও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। সম্প্রতি ১০০-রও বেশি বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়র ‘ইসরো’ ছেড়েছেন। যার মূল কারণ বেসরকারিকরণ। ইতিমধ্যেই একাধিক বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে কাজ শুরু করেছে ইসরো। এই অবস্থায় সংস্থার প্রশ্ন ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। যদিও কর্তৃপক্ষের জবাবে নিশ্চিন্ত হলেন কর্মীরা।
