shono
Advertisement

Breaking News

Amit Shah

'ভারত মাওবাদীমুক্ত', লাল সন্ত্রাসকে কফিনবন্দি করে বস্তার থেকে ঘোষণা শাহের

একসময় মাওবাদীদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত নিরাপত্তাবাহিনীর ক্যাম্পকে জনসেবা কেন্দ্রের রূপ দেওয়া হয়েছে। তেমনই এক জনসেবা কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন শাহ।
Published By: Amit Kumar DasPosted: 01:32 PM May 19, 2026Updated: 03:40 PM May 19, 2026

এককালে বস্তার আর লাল সন্ত্রাস ছিল সমার্থক শব্দ। ছত্তিশগড়ের এক অঞ্চলকে বলা হত ভারতের মাওবাদের আঁতুড়ঘর। তবে গুলি-বোমার শব্দ ও রক্তের দাগ মুছে এখন শান্তির বাতাস বইছে একদা মাও-ঘাঁটিতে। সোমবার সেই বস্তারে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) সদর্পে ঘোষণা করলেন, 'ভারত এখন মাওবাদীমুক্ত।' কয়েক বছর আগে লাল সন্ত্রাসকে কফিনবন্দি করার যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল তা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। এখন ভারত সরকারের লক্ষ্য ছত্তিশগড়ের উন্নয়ন।

Advertisement

সোমবার বস্তারের নেতানারে এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে জনগণের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'আপনারা এখন গর্বের সঙ্গে বলতে পারেন, ভারত এখন মাওবাদীমুক্ত।" এরপরই উন্নয়নের বার্তা দিয়ে শাহ বলেন, ''নিরাপত্তার পাশাপাশি এখন সময় সেবা ও উন্নয়নের। সরকারি প্রকল্প ও পরিষেবাগুলি এমন সব এলাকায় সহজে পৌঁছে যাচ্ছে, যেখানে একটা সময় পা রাখার সাহস পেত না মানুষ।'' এই এলাকায় একসময় মাওবাদীদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত নিরাপত্তাবাহিনীর ক্যাম্পকে জনসেবা কেন্দ্রের রূপ দেওয়া হয়েছে। তেমনই এক জনসেবা কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন শাহ। জানান, এটাই আগামিদিনে বস্তারের মডেল হতে চলেছে।

নিরাপত্তাবাহিনীর কাজে ব্যবহৃত শিবিরগুলিকে পর্যায়ক্রমে 'জনসেবা কেন্দ্রে' রূপান্তরিত করা হবে। প্রথম পর্যায়ে প্রায় ২০০টি শিবিরের মধ্যে ৭০টিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২৪ সালের ২১ জানুয়ারি সরকার ঘোষণা করেছিল ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে দেশকে মাওবাদীমুক্ত ঘোষণা করা হবে। আর সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে পারাটা শুধু নিরাপত্তাবাহিনীর সাফল্য নয়, বরং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রত্যাশার জয়। পাশাপাশি জানান, মাওবাদ খতম হলেও আসল কাজ সবে শুরু হয়েছে। নিরাপত্তাবাহিনীর কাজে ব্যবহৃত শিবিরগুলিকে পর্যায়ক্রমে 'জনসেবা কেন্দ্রে' রূপান্তরিত করা হবে। প্রথম পর্যায়ে প্রায় ২০০টি শিবিরের মধ্যে ৭০টিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দারা এক জায়গায় বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা পাবেন। এই কেন্দ্রগুলির নামকরণ করা হবে 'শহিদ বীর গুণ্ডাধুর সেবা ডেরা' নামে। ধীরে ধীরে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলিতে গড়ে তোলা হবে রাস্তাঘাট, স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কর্মসংস্থানের সুযোগ।

বস্তারের বাস্তব পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে অমিত শাহ বলেন যে, এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো শিক্ষা ও উন্নয়নের অভাব। নকশালবাদ উন্নয়নের দৌড়ে এই অঞ্চলকে উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে দিয়েছিল, কিন্তু এখন রাস্তাঘাট, স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ফলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের কথাও উল্লেখ করেন এবং বলেন যে দেশের তিনটি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ (কাশ্মীর, উত্তর-পূর্ব এবং নকশালবাদ) এখন নির্মূলের দ্বারপ্রান্তে।

সবশেষে অমিত শাহ 'অপারেশন ব্ল‍্যাক ফরেস্ট'-এর কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই কঠিন অভিযান চালানো না হলে বস্তারের আজকের এই পরিবর্তন কখনই সম্ভব হত না। বস্তার এখন ধীরে ধীরে ভয়কে পিছনে ফেলে উন্নয়ন এবং পারস্পরিক আস্থার এক নতুন পথে এগিয়ে চলেছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement