আমেরিকার সঙ্গে বন্ধুত্বে সিলমোহর পড়তেই পুরনো বন্ধু ইরানের সঙ্গে আড়ি করল ভারত (India-Iran)! সেই জল্পনা উসকে দিয়ে এবার ইরানের ৩ তেলের ট্যাঙ্কার আটক করল দিল্লি। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হয়, এই তিন ট্যাঙ্কারে আমেরিকার তরফে নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। সম্প্রতি মুম্বইয়ে এইগুলিকে আটক করে উপকূলরক্ষী বাহিনী। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে শুরু করেছে, তবে কী আমেরিকাকে বন্ধুত্বের প্রমাণ দিতে দীর্ঘদিনের বন্ধু ইরানের সঙ্গে সম্পর্কে কাঁটা বিছোচ্ছে মোদি সরকার? গোটা ঘটনার মুখ খুলেছে ইরানও।
জানা গিয়েছে, যে তিনটি জাহাজকে আটক করা হয়েছে সেগুলি হল স্টেলার রুবি, অ্যাসফল্ট স্টার এবং আল জাফরিয়া। অবৈধ বাণিজ্যের জন্য এই ৩ জাহাজের উপরই নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে আমেরিকা। জানা যাচ্ছে, ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুর দিকে এই জাহাজগুলি আটক করে উপকূলরক্ষী বাহিনী। অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা এড়াতে এই জাহাজগুলি মাঝ সমুদ্রে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তর করে থাকে এবং তা পাচার করা হয়। এমনকী অন্যান্য দেশের চোখে ধুলো দেওয়ার জন্য জাহাজগুলি নিজেদের পরিচয় বদল করে। দাবি করা হচ্ছে, ভারতের সমুদ্রসীমায় এই অবৈধ তেলের পাচার রুখতেই কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে জাহাজগুলিকে।
ট্যাঙ্কার আটকের তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই মুখ খুলের ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তরফে জানানো হয়েছে, ভারতের হাতে আটক হওয়া তিনটি ট্যাঙ্কারের সঙ্গে তাদের রাষ্ট্রায়াত্ত সংস্থাগুলির কোনও সম্পর্ক নেই।
এদিকে ট্যাঙ্কার আটকের তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই মুখ খুলের ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তরফে জানানো হয়েছে, ভারতের হাতে আটক হওয়া তিনটি ট্যাঙ্কারের সঙ্গে তাদের রাষ্ট্রায়াত্ত সংস্থাগুলির কোনও সম্পর্ক নেই। এমনকী ট্যাঙ্কারে থাকা কেউই তাদের সংস্থার সঙ্গে যুক্ত নন। অন্যদিকে সূত্রের খবর গোটা ঘটনায় চূড়ান্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে ভারতের তরফে। জানা যাচ্ছে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী দেশের সামুদ্রিক অঞ্চলে টহল দেওয়ার জন্য প্রায় ৫৫টি জাহাজ এবং ১০ থেকে ১২টি বিমান মোতায়েন করেছে। এছাড়া ভারত মহাসাগর এবং আরব সাগরে ভারতীয় নৌসেনাও কড়া নজরদারি জারি রেখেছে।
তবে ভারতের তরফে ইরানের জাহাজ আটকের ঘটনায় কূটনীতিক মহলে উঁকি দিতে শুরু করেছে নানা প্রশ্ন। বিশ্ব কূটনীতির সাম্প্রতিক পরিস্থিতির উপর চোখ রাখলে দেখা যাচ্ছে, শুল্ক যুদ্ধের বিরাট ডামাডোল পেরিয়ে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি কার্যত সম্পন্ন হয়েছে ভারতের। একটা সময় যেখানে ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন তা এখন কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ শতাংশে। আমেরিকার দাবি অনুযায়ী, ভারত তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে রাশিয়ার থেকে তেল কিনবে না। এদিকে ইরানের বিরুদ্ধেও যুদ্ধের ডঙ্কা বাজিয়েছে ওয়াশিংটন। অথচ আমেরিকার শত্রু তালিকায় পড়া এই দুই দেশই ভারতের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। এহেন অবস্থার মাঝে মার্কিন নিষিদ্ধ ইরানের ৩ জাহাজ ভারতের তরফে আটকের ঘটনা দিল্লির কূটনৈতিক অভিমুখ নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিতে শুরু করেছে। প্রশ্ন উঠছে তবে কী মার্কিন বন্ধুত্বের শর্ত পালন করতে গিয়ে পুরনো সঙ্গীদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছে দিল্লি?
