ভারতের মুসলিম স্থাপত্য-সৌধগুলিকে আক্রমণ করা হচ্ছে। তার ফলেই দেশজুড়ে বাড়ছে অশান্তি। বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। এবার পাক প্রেসিডেন্টকে পালটা তোপ দাগল ভারত। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, এই ধরনের মন্তব্য আজগুবি। স্রেফ ঘৃণা থেকেই এহেন আক্রমণাত্মক কথা বলা হয়েছে।
কয়েকদিন আগের জারদারি বলে বসেন, হাজার বছরের পুরনো মসজিদ ভেঙে ফেলা হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমনটা হলে ভারতে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে। তাই ভারতের উচিত, সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা করা এবং মুসলিম স্থাপত্যগুলিকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা। এই মন্তব্যকেই তোপ দেগেছেন রণধীর। তিনি বলেন, "পাক প্রেসিডেন্টের এহেন অনধিকার চর্চা আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলি নিয়ে মন্তব্য করার জায়গাই নেই জারদারির।"
একইসঙ্গে পাকিস্তানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের দীর্ঘ ইতিহাসও তুলে ধরেছেন রণধীর। বলেন, "পাকিস্তান নিজেদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইতিহাস দেখুক। বেছে বেছে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিশানা করা হয়েছে, তাঁদের উপর নির্যাতন চলেছে। সেকথা মাথায় রেখে বলা যেতে পারে, এই কথাগুলি একেবারে আজগুবি।" বিদেশমন্ত্রকের তরফে জারদারির বক্তব্য উড়িয়ে দিয়ে বলা হয়েছে, "বাস্তবটা খেয়াল রেখেই বলা যেতে পারে, এই মন্তব্য আসলে রাজনৈতিক আক্রমণ। পাকিস্তান যে ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং ঘৃণার রাজনীতি করে, এই মন্তব্য সেটারই প্রতিফলন।"
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের 'জঙ্গি সংস্কৃতি' নিয়ে তুলোধোনা করেছিল ভারত। রাষ্ট্রসংঘে দিল্লির প্রতিনিধি অনুপমা সিং বলেন, “সন্ত্রাসবাদীদের প্রশিক্ষণ, মোতায়েন এবং আশ্রয়” দেওয়াই ইসালামাবাদের কাজ। অথচ পাকিস্তান নিজেকেই সন্ত্রাসবাদের শিকার বলে দাবি করে। সত্যিই এক অদ্ভুত বৈপরীত্য, যা কেবল পাকিস্তানই জিইয়ে রাখতে পারে। ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ রাষ্ট্রের জীবন্ত উদাহরণ, নিজেরই সৃষ্টি করা দানবের পালটা কামড়ে হতবাক হয়ে পড়ে।" আবারও পাকিস্তানকে আয়না দেখিয়ে দিল ভারত।
