উত্তরবঙ্গে প্রবল বৃষ্টিতে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। ডুয়ার্স, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ির একাধিক এলাকা জলমগ্ন। আলিপুরদুয়ারে টানা বর্ষণে হলং নদীর জল বাড়ছে। জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে ওই নদীর উপর তৈরি অস্থায়ী ব্রিজ। ফলে জলদাপাড়ার ট্যুরিস্ট লজ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কোচবিহারের একাধিক জায়গাও ধারাবাহিক বৃষ্টিতে জলমগ্ন। ভুটানে ধারাবাহিকভাবে বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে ভুটান থেকে ক্রমশ নীচে জল নামছে। ফলে আলিপুরদুয়ার, কোচবিহারের নদীগুলিতে জল ক্রমশ বাড়ছে। দার্জিলিংয়ের পার্বত্য অঞ্চলেও ধারাবাহিক বৃষ্টি হওয়ায় রীতিমতো দুশ্চিন্তা বাড়ছে। হড়পা বানের আশঙ্কাও করা হচ্ছে। আগামী তিনদিন ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করেছে হাওয়া অফিস।
আলিপুরদুয়ারে টানা বর্ষণ চলছে শনিবার রাত থেকে। রবিবার সকালেও ভারী বৃষ্টি হয়েছে। কোচবিহার, দার্জিলিং-সহ উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জায়গাতেও ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। ডুয়ার্সের বিভিন্ন জায়গা জলের তোড়ে ভেসেছে। হলং নদীতে জলের পরিমাণ বেড়েছে অনেকটাই। জলের তোড়ে রবিবার ভেঙে গেল হলং নদীর উপর থাকা অস্থায়ী ব্রিজ। ওই সেতু পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে জলদাপাড়া ট্যুরিস্ট লজ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। প্রসঙ্গত, আট মাস আগে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টিতে বিপর্যয় দেখা গিয়েছিল। সেসময় ডুয়ার্সের একাধিক এলাকা বানভাসী হয়। তখন এই মূল সেতু ভেঙেছিল। তারপর থেকে এই অস্থায়ী সেতু বানিয়েই যাতায়াত চলছিল। এবার সেই সেতুও ভেঙে গেল।
আলিপুরদুয়ারে টানা বর্ষণ চলছে শনিবার রাত থেকে। রবিবার সকালেও ভারী বৃষ্টি হয়েছে। কোচবিহার, দার্জিলিং-সহ উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জায়গাতেও ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। ডুয়ার্সের বিভিন্ন জায়গা জলের তোড়ে ভেসেছে। হলং নদীতে জলের পরিমাণ বেড়েছে অনেকটাই।
এই অস্থায়ী ব্রিজ তৈরি করে বনদপ্তর। এই পথের উপর নির্ভরশীল এলিফ্যান্ট স্কোয়াড, র্যাপিড রেসপন্স টিম ও জলদাপারা নর্থ রেঞ্জের বনকর্মীরা। মানুষ-বন্যপ্রাণ সংঘাত মোকাবিলা, গ্রামবাসীদের নিরাপত্তা এবং বিপদগ্রস্ত বন্যপ্রাণ উদ্ধারের কাজে এই সংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আরও বৃষ্টি হলে, ভুটানের জল নামলে বন্যার আশঙ্কা থাকছে। বন্যপ্রাণীদের যাতে কোনওরকম সমস্যা না হয়, সেদিকেও নজর রাখছে বনকর্মীরা। কালচিনি, হাসিমারা বারোবিশা, কুমারগ্রাম ও ফালাকাটার বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন। বৃষ্টির জলের সঙ্গে নদীর জলও এলাকায় ঢুকছে। পরিস্থিতির
কোচবিহারেও প্রবল বৃষ্টিতে জল বাড়ছে। শহরের বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন। জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ি, নাগরাকাটা, ধূপগুড়ি-সহ একাধিক এলাকাতেও নদীর জল বাড়ছে। আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করেছে হাওয়া অফিস। দুর্যোগ বাড়লে বন্যার আশঙ্কা থাকছে। পর্যটকদের নিরাপদ স্থানে থাকার আবেদন জানিয়েছে প্রশাসন। পরিস্থিতি যাতে আয়ত্তের মধ্যে থাকে, সেই নজরদারি চলছে। ভুটানের থেকে ধারাবাহিক জল নামায় উত্তরবঙ্গের নদীগুলিতে ক্রমশ জল বাড়ছে।
