ভারত-মার্কিন চূড়ান্ত বাণিজ্য চুক্তি সাক্ষরের আগে ‘চুপিচুপি’ চুক্তিপত্রে বেশকিছু রদবদল করেছে আমেরিকা! সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিতর্কের মাঝে এবার মুখ খুলল ভারত। নয়াদিল্লি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, দু’দেশের পারস্পরিক সমঝোতা আগের মতো রয়েছে। কোনও পরিবর্তন হয়নি।
এ প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার বিদেশ মন্ত্রক একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানে লেখা হয়েছে, ‘বাণিজ্য সংক্রান্ত অন্তর্বর্তী চুক্তির কাঠামো নিয়ে ভারত এবং আমেরিকা গত ৭ ফেব্রুয়ারি একটি যৌথ বিবৃতি জারি করেছিল। সেই বিবৃতি অনুযায়ী, দু’দেশের মধ্যে সমঝোতার কোনও পরিবর্তন হয়নি। দু’দেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া একই রয়েছে।’ বিদেশমন্ত্রকের তরফে আরও জানানো হয়েছে, ভারত এবং আমেরিকা অন্তবর্তী চুক্তি চূড়ান্ত করা জন্য কাজ করছে। চুক্তিপত্রে সাম্প্রতিক যে সংশোধন আনা হয়েছে, তা পারস্পরিক বোঝাপড়ার সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।
দীর্ঘ টানাপোড়েন ও শুল্ক যুদ্ধ কাটিয়ে সম্প্রতি সমঝোতার জায়গায় এসেছে ভারত ও আমেরিকা। শীঘ্রই হতে চলেছে দুই দেশের বাণিজ্য চুক্তি। তবে চুক্তি সই হওয়ার আগে মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের তরফে একটি রিপোর্ট সামনে আসে। চুক্তির শব্দ এবং শর্তে দু'টি বড় পরিবর্তন আনা হয়। এই পরিবর্তনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, মূল চুক্তিপত্রে লেখা ছিল, ভারত আমেরিকার থেকে ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যের পণ্য কিনতে ‘প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’। এই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ শব্দটি বদলে করা হয়েছে ‘কিনতে ইচ্ছুক’। দ্বিতীয় বদল আনা হয়েছে কৃষিজ পণ্য কেনার শর্তে। আরও স্পষ্টভাবে নির্দিষ্ট কিছু ডাল। আগের খসড়া চুক্তিপত্রে উল্লেখ ছিল ভারত মার্কিন পণ্যের উপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করবে বা শুল্ক কমাবে। এই তালিকায় ছিল ড্রাইড ডিস্টিলার্স গ্রেইনস, রেড সরগাম, ট্রি নাটস, তাজা ও প্রক্রিয়াজাত ফল, নির্দিষ্ট ডাল, সয়াবিন তেল, ওয়াইন ও স্পিরিটস। তবে সংশোধিত সংস্করণে নির্দিষ্ট ডালের উল্লেখ নেই।
তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, দুই দেশের বাণিজ্য চুক্তির এই সংশোধন নিশ্চিতভাবে ভারতের জন্য লাভজনক। প্রথমত, পূর্ববর্তী খসড়া অনুযায়ী ভারত আমেরিকার থেকে ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যের পণ্য কিনতে বাধ্য ছিল। এখন নয়া শর্তে ভারত আর বাধ্য নয়। অন্যদিকে, মার্কিন নিঃশুল্ক কৃষিপণ্যে ডাল জাতীয় পণ্যকে বাদ দেওয়ার অর্থ ভারত এই পণ্যগুলিতে নিজের ইচ্ছেমতো শুল্ক চাপাতে পারবে।
