সপ্তাহখানেক আগে পেট্রল-ডিজেলে শুল্ক কমিয়েছিল কেন্দ্র। এবার পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের উপর শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়া হল। বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রকের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে,অন্তত ৪০টি পেট্রোকেমিক্যালের উপর শুল্ক একেবারে তুলে নেওয়া হল। তার ফলে উপকৃত হবে প্লাস্টিক, বস্ত্র, ফার্মাসিউটিক্যাল-সহ একাধিক শিল্পক্ষেত্র। যুদ্ধের প্রতিকূল পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই আপাতত তিন মাসের জন্য শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
গত শুক্রবার পেট্রল ও ডিজেলের উপর অন্তঃশুল্ক লিটার প্রতি ১০ টাকা করে কমানো হয়। এর ফলে পেট্রলের ক্ষেত্রে লিটার প্রতি শুল্ক কমে দাঁড়ায় ৩ টাকা, অন্যদিকে ডিজেলের উপর শুল্ক শূন্য। সূত্র মারফত জানা যায়, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ, পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী-সহ মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্যের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই বৈঠকেই শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার প্রভাব ভারতের বাজারে যেন না পড়ে, সেকারণেই পেট্রল-ডিজেলে শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কেন্দ্র চাইছে যুদ্ধের আবহে দাম যেন কোনওভাবেই না বাড়ে। তাই শুল্ক কমিয়ে মূল্যবৃদ্ধি রুখতে চাইছে মোদি সরকার।
বৃহস্পতিবার আবারও শুল্ক সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত চল্লিশটি পেট্রো কেমিক্যালের আমদআনি-রপ্তানি শুল্ক থাকবে না। অর্থ দপ্তরের তরফ থেকে বলা হয়েছে, পেট্রোকেমিক্যালের যোগান যেন যুদ্ধের আবহেও স্বাভাবিক থাকে সেকারণেই শুল্ক আপাতত প্রত্যাহার করা হয়েছে। পেট্রোকেমিক্যাল ব্যবহার করে প্রচুর পণ্য উৎপাদন হয় যা আমজনতার নিত্য প্রয়োজনীয়। তাই শুল্ক কমালে পেট্রোকেমিক্যালের যোগান অক্ষুণ্ণ থাকবে এবং পণ্য উৎপাদনে ঘাটতি হবে না, এমনটাই কেন্দ্রের আশা। যদিও ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, এই শুল্ক হ্রাসের ফলে অধিকাংশ উপভোক্তার জন্য জ্বালানির দাম কমার সম্ভাবনা কম।
উল্লেখ্য, ইরানের সঙ্গে ইজরায়েল-আমেরিকার যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে গোটা বিশ্বে। হরমুজ প্রণালীতে বহু জাহাজ আটকে থাকার জেরে টান পড়েছে ভারতের তেল এবং গ্যাস আমদানিতে। এহেন পরিস্থিতিতে আতঙ্ক বেড়েছে আমজনতার মনেও। জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়ছে। এহেন পরিস্থিতিতে পেট্রোকেমিক্যালে শুল্ক কমিয়েছে কেন্দ্র। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কেন্দ্র চাইছে যুদ্ধের আবহে দাম যেন কোনওভাবেই না বাড়ে। তাই শুল্ক কমিয়ে মূল্যবৃদ্ধি রুখতে চাইছে মোদি সরকার।
