যুদ্ধের বাজারে অশোধিত তেল যেন গুপ্তধন, হরমুজ প্রণালী হল গোপন সুরঙ্গ! এই পথেই জ্বালানি সংকটের মুশকিল আসান। তাকেই সুরক্ষিত করছে ভারতের নৌবাহিনী। বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh) নিশ্চিত করলেন, প্রতিশ্রুতি মতো ভারতীয় নৌসেনার পাহারায় একাধিক তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ দেশের বন্দরগুলির পথে। ফলে দেশে জ্বালানি সংকট নেই বলেই দাবি তাঁর। তবে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার ভোটমুখী কেরলে ছিল বিজেপির জনসভা। সেখানে রাজনাথ দাবি করলেন, জ্বালানি বা গ্যাসের সংকট তৈরি হয়নি দেশে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধের জেরে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সক্ষম ভারত। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, "আমরা পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি এবং যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত আছি।" তিনি জানান, খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। মোদির কূটনৈতিক উদ্যোগের লক্ষ্য হল উপসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের স্বার্থরক্ষা করা।
২৬ মার্চ জানা গিয়েছিল, ভারতমুখী ২০টি জাহাজ অবস্থান করছে হরমুজে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। পালটা হামলার পাশাপাশি কৌশল হিসাবে বিশ্বের জ্বালানির ধমনী হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করেছে ইরান। এর জেরে অন্যান্য দেশের মতোই জ্বালানি সংকটে ভুগছে ভারত। এই পরিস্থিতিতে ভারতমুখী তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজগুলিকে নিরাপত্তা দিতে অপারেশন ‘উর্জা সুরক্ষা’ শুরু করেছে ভারতীয় নৌসেনা। এর জন্য পাঁচ বা তার বেশি রণতরীকে পাঠানো হয়েছে হরমুজের (Strait of Hormuz) পথে। যারা ভারতমুখী জাহাজগুলিকে পথ দেখানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা দিচ্ছে।
২৬ মার্চ জানা গিয়েছিল, ভারতমুখী ২০টি জাহাজ অবস্থান করছে হরমুজে। সেগুলিতে পিএনজি, এলএনজি, অশোধিত তেল ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ আমদানি সামগ্রী রয়েছে। এই জাহাজগুলিকে সুরক্ষা দেবে নৌসেনার জাহাজগুলি। যুদ্ধের কারণে উপদ্রুত ওমান উপকূল থেকে আরব সাগর অবধি তেল ও পণ্য জাহাজগুলির সঙ্গী হবে ভারতীয় রণতরী। যতক্ষণ না সংঘর্ষবিরতি হচ্ছে ততক্ষণ অপারেশন 'উর্জা সুরক্ষা' চালু থাকবে বলেই জানা গিয়েছে।
