বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, রুশ তেল না কেনা এবং পাঁচ বছরে ৪৫ লক্ষ কোটি টাকার মার্কিন পণ্য কেনার শর্তে বাণিজ্য চুক্তি করতে চলেছে ভারত ও আমেরিকা। পাশাপাশি মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও দাবি করেন, রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে ভারত। যদিও ভারত এবিষয়ে আপাতত অবস্থান স্পষ্ট করেনি। তবু দেখা যাচ্ছে ইতিমধ্যেই রুশ তেল কেনা অনেকটাই কমিয়েছে ভারত। গত জানুয়ারির তুলনায় এবছরের জানুয়ারিতে রাশিয়ার থেকে ৪০.৫ শতাংশ তেল কম কিনেছে নয়াদিল্লি, এমনটাই দাবি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের!
ওই রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যেখানে ৪.৮১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়েছিল রাশিয়া থেকে, সেখানে এবারের জানুয়ারিতে মাত্র ২.৮৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্যই আমদানি করেছে ভারত। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, রুশ তেল কেনা বন্ধ করাতেই এই অবনতি। আসলে রাশিয়ার থেকে মোট যা পণ্য আমদানি করে ভারত, তার ৮০ শতাংশই রুশ তেল। ফলে তা কেনা কমালেই সামগ্রিক ছবিটাও বদলে যাবে সেইমতো। বলে রাখা ভালো, ক্রেমলিন অবশ্য আগেই জানিয়ে দিয়েছে, ভারত যেখান থেকে ইচ্ছে তেল কিনতে পারে। রুশ বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, ভারত অনেক জায়গা থেকেই তেল কেনে। রাশিয়াই ভারতের একমাত্র জ্বালানি সরবরাহকারী দেশ নয়।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার মিউনিখ সিকিওরিটি কনফারেন্সে বক্তব্য রাখছিলেন বিদেশমন্ত্রী। সেখানে বলেন, “ভারত বরাবরই কৌশলগত ক্ষেত্রে স্বাধীন থেকেছে। রাজনৈতিক পালাবদল হলেও ভারতের এই নীতি কোনও সময়েই বদলায়নি।” তাঁর ইঙ্গিত ছিল আমেরিকার চাপ সামলেও রুশ তেল কেনা অব্যাহত রাখছে ভারত। শেষপর্যন্ত হোয়াইট হাউসের কারণে তা সম্পূর্ণ বন্ধ হবে কিনা তা সময়ই বলবে। কিন্তু আপাতত সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, নয়াদিল্লি রুশ তেল কেনা কমিয়েছে অনেকটাই।
