বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রার্থী বাছাই ঘিরে তৎপরতা তুঙ্গে উঠেছে বিজেপির অন্দরমহলে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের স্পষ্ট বার্তা—এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের মতামতকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এর মাধ্যমে বাংলায় সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে রাজ্য নেতৃত্বকে সামনে রাখার কৌশল নিচ্ছে বিজেপি।
সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই বাংলার সমস্ত বিজেপি লোকসভা সাংসদের কাছে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তিনটি করে নাম চাওয়া হয়েছে। তবে এই নামগুলিই যে চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা পাবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। দলের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা দল যে প্রস্তাবিত নামের তালিকা তৈরি করেছে, সেগুলিও আলাদা করে যাচাই করা হচ্ছে। এই দুই তালিকা মিলিয়েই সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা তৈরির প্রাথমিক কাজ এগোচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
প্রার্থী বাছাইয়ের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরির দায়িত্বে রয়েছেন কেন্দ্রীয় সংগঠনের প্রভাবশালী নেতা সুনীল বনসাল ও ভূপেন্দ্র যাদব। তবে কেন্দ্রীয় সূত্রের দাবি, কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একাধিক দফায় শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁর মতামত নেওয়া হচ্ছে।
দলের রাজ্য নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতা ভূপেন্দ্র যাদব সম্প্রতি দিল্লিতে একে একে বঙ্গ বিজেপির সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকগুলিতে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনৈতিক সমীকরণ, স্থানীয় প্রভাবশালী মুখ এবং সংগঠনের শক্তি-দুর্বলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। প্রার্থী বাছাইয়ের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরির দায়িত্বে রয়েছেন কেন্দ্রীয় সংগঠনের প্রভাবশালী নেতা সুনীল বনসাল ও ভূপেন্দ্র যাদব। তবে কেন্দ্রীয় সূত্রের দাবি, কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একাধিক দফায় শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁর মতামত নেওয়া হচ্ছে। দিল্লিতে দীর্ঘ বৈঠকে সাংসদদের প্রস্তাবিত নামগুলি নিয়েও শমীকের পর্যবেক্ষণ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শমীক ভট্টাচার্যকে সামনে রেখে প্রার্থী নির্বাচনের রাশ ধরিয়ে বিজেপি আসলে রাজ্য সংগঠনের ভিত আরও মজবুত করতে চাইছে। স্থানীয় নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিলে কর্মীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আরও সংগঠিত লড়াই গড়ে তোলা সম্ভব হবে—এমনটাই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ধারণা। সব মিলিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির অন্দরে এখন প্রার্থী তালিকা নিয়ে জোর প্রস্তুতি চলছে। আর সেই প্রস্তুতির কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য—যাঁর মতামতকে সামনে রেখেই বাংলায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ গড়ার পথে হাঁটতে চাইছে গেরুয়া শিবির।
