পশ্চিম এশিয়ার ভয়ংকর যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের সাধারণ নাগরিকদের উপর। একধাক্কায় ৬০ টাকা বেড়েছে প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) দাম। রিপোর্ট বলছে যুদ্ধের জেরে জ্বালানি গ্যাসের সরবরাহ ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। কাতার-সহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশে উৎপাদন ব্যহত হওয়ায় ভারতে ৪০ শতাংশ সরবরাহ প্রভাবিত। গুরুতর এই পরিস্থিতিতে দেশের শিল্প ক্ষেত্রে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রাখতে কেন্দ্রীয় সরকার বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। যেখানে সার উৎপাদন ক্ষেত্রগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের উদ্ধৃতি দিয়ে টাইমস অফ ইন্ডিয়ার রিপোর্ট বলছে, দেশের উৎপাদন ক্ষেত্র যাতে প্রভাবিত না হয় সে কথা মাথায় রেখে সরকার বিতরণ ব্যবস্থা নিয়ে বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে। মঙ্গলবারের মধ্য যা কার্যকর হতে পারে। সেক্ষেত্রে সার সরবরাহ কিছুটা হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে এই ঘটনার কোনও প্রভাব কৃষি ক্ষেত্রে পড়বে না বলেই জানা যাচ্ছে। সরকারের তরফে জানা যাচ্ছে, সার উৎপাদন সংস্থাগুলিকে যাতে গ্যাসের ঘাটতি না পড়ে তার জন্য এই সেক্টরে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ করা হবে।
কাতার-সহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশে উৎপাদন ব্যহত হওয়ায় ভারতে ৪০ শতাংশ সরবরাহ প্রভাবিত। গুরুতর এই পরিস্থিতিতে দেশের শিল্প ক্ষেত্রে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রাখতে কেন্দ্রীয় সরকার বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।
ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (FAI)-এর তরফে জানানো হয়েছে, কৃষি খাতে বর্তমানে চাহিদা অনেক কম জুন মাস থেকে খরিফ ফসলের চাষ শুরু হবে। এই সময়ে উৎপাদন মাঝারি থাকে ফলে সার উৎপাদন সংস্থাগুলি এই সময়টিকে কারখানা রক্ষণাবেক্ষণের কাজে ব্যবহার করছে। পাশাপাশি রিপোর্ট বলছে, বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে সার মজুত রয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত মোট সারের মজুত ৩৬.৫% বেড়ে ১৭.৭ মেট্রিক টন হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে প্রায় ১৩ মেট্রিক টন ছিল। FAI অনুসারে, DAP এবং NPK মজুদ গত বছরের তুলনায় ৭০-৮০% বেশি। ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ, সংস্থাগুলি ৯.৮ মেট্রিক টন সার আমদানি করেছে। এছাড়াও, আগামী তিন মাসের জন্য অতিরিক্ত ১.৭ মেট্রিক টন আমদানির পরিকল্পনা করা হয়েছে। ফলে কৃষকদের কোনও রকম সমস্যা হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
এদিকে দেশে গ্যাসের সংকট মেটাতে বিকল্প পথের সন্ধান করছে সরকার। দেশে মোট চাহিদার ৪০ শতাংশ আসে পশ্চিম এশিয়া থেকে বাকি ৬০ শতাংশ অন্যান্য ক্ষেত্র থেকে। সরকার ও দেশের সংস্থাগুলি চেষ্টা করছে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার মতো দেশ থেকে অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে। যাতে ঘাটতি পূরণ করা যায়। দাবি করা হচ্ছে, এই সংকটের মূল কারণ হল কাতার। ভারতে ইউরিয়া উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত ৬০% এলএনজি কাতার থেকে আমদানি করা হয়। তবে সম্প্রতি সেখানে ইরানের হামলার পর কাতার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়, যার ফলে ভারতের সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের আঘাত এসেছে।
