সুপ্রিম কোর্টে শুরু মূল এসআইআর মামলা। কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ১০ লক্ষ 'বিবেচনাধীন' ভোটারদের নিষ্পত্তি করা হয়েছে। শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, এসআইআরের কাজে যুক্ত বিচারকদের ভূমিকা নিয়ে যেন কোনও প্রশ্ন যেন তোলা না হয়। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের মন্তব্য, "কোথায় কী হচ্ছে আমরা জানি।"
এদিন শুনানির শুরুতে আরও একটি পিটিশন দায়ের করা হয়। তা নিয়ে ক্ষুদ্ধ হয় আদালত। প্রধান বিচারপতি বলেন, "আবেদনকারীরা কীভাবে আবেদন করার সাহস পান? বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের প্রশ্ন করার সাহস দেখানো হচ্ছে। আমি সতর্ক করছি।" আদালত সর্তক করে বলে, "এখনই প্রশ্ন তুলবেন না। ভুল বার্তা যাবে।"
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী বলেন, "আমরা কোনও পিটিশন করিনি। বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের কাজ নিয়ে প্রশ্ন অবাক করার মতো।" প্রধান বিচারপতি বলেন, "আপনি বিষয়টি জানেন না। একজন আবেদনকারী আবেদনটি দায়ের করেছেন। গুরুস্বামী বলেন, "আমি আবেদনকারীর সঙ্গে নেই।"
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর বাংলার ৫০০ জন। ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার ২০০ জন বিচারক কাজ করছেন বিচারাধীন ভোটারদের নিষ্পত্তির বিষয়ে। কিন্তু কবে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে? সেই প্রশ্ন ওঠে। আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী বলেন, "যে গতিতে কাজ চলছে, সময়মতো কাজ শেষ নাও হতে পারে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, "আমরা সিদ্ধান্ত নেব।" বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছে, কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি নির্বাচন কমিশনকে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করার জন্য সুপারিশ করবে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, "অনুমোদন পেলেই সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হোক। এখনও পর্যন্ত নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়নি। আমাদের অনুরোধ দয়া করে সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করুন।"
৬০ লক্ষ বিচারাধীন ভোটারদের মধ্যে যাঁদের নাম বাদ গেলে তাঁরা কোথায় আবেদন করবেন? সেই বিষয়টি উঠে আসে শুনানিতে। এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করে একজন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির ও বিচাকরকে নিয়ে আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে পারে। প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি রাজি থাকলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে ইলেকশন কমিশন।
