গত দশ দিনের মধ্যে সোমবার চতুর্থবার দাম বেড়েছে পেট্রল-ডিজেলের। সমস্যায় পড়েছে সাধারণ মানুষ। এই পরিস্থিতিতে এবার কেন্দ্র এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তোপ দাগলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, “মূল্যবৃদ্ধির নায়ক আবার হামলা শুরু করে দিয়েছেন।”
সোমবার রাহুল তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘আমি বেশ কয়েকমাস ধরেই একটা অর্থনৈতিক ঝড়ের ব্যাপারে সতর্ক করে আসছিলাম। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেকবারের মতোই তখন নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন - আর নির্বাচন শেষ হতেই পেট্রোল-ডিজেলের দাম এক ধাক্কায় ৮ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হল।’ তাঁর দাবি, আগামী দিনে জ্বালানির দাম ক্রমাগত বাড়তে থাকবে। নাগরিকরা মুদ্রাস্ফীতির কারণে দুর্ভোগ পোহালেও কেন্দ্র কেবল নির্বাচনেই মনোযোগ দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন রাহুল। কংগ্রেস সাংসদ আরও লেখেন, ‘মূল্যবৃদ্ধি বিশেষজ্ঞ মোদির একটাই কাজ - নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি দেওয়া এবং বাকি সময় জনগণের পকেটে আঘাত হানা।’
বঙ্গে ভোটপর্ব মেটার পর গত ১৫ মে দেশে একধাক্কায় প্রায় ৩ টাকা প্রতি লিটার বেড়েছিল পেট্রলের দাম। এরপর ১৯ মে আরও ৯০ পয়সা করে বাড়ানো হয় জ্বালানি তেলের দাম। এই ঘটনায় দেশব্যাপী বিতর্ক মাথাচাড়া দিলেও থামেনি কেন্দ্র। ২৩ মে শনিবার ফের ৮৭ পয়সা দাম বাড়ানো হয় পেট্রলের। সেই ধারা অব্যাহত রেখে সোমবার আরও প্রায় ৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। যার জেরে গত ১০ দিনে ৭ টাকার বেশি দামবৃদ্ধি হল জ্বালানি তেলের। এর ফলে কলকাতায় পেট্রলের লিটার প্রতি নতুন দাম হয়েছে ১১৩ টাকা ৫১ পয়সা। এবং লিটার পিছু ডিজেল হয়েছে ৯৯ টাকা ৮২ পয়সা।
উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ সংকটের জেরে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে বিশ্বজুড়ে। এই অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে দেশের তেলের দাম বাড়ানোর জন্য চাপ দিচ্ছিল তৈল সংস্থাগুলি। এরপর ভোটপর্ব মিটতেই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার দফায় দফায় বাড়ানো হচ্ছে সেই দাম। তবে জ্ব্বলানি তেলের দাম বাড়লে শুধু পরিবহণ খরচ বাড়ে না, সার্বিক জীবনযাপনে এর বিরাট প্রভাব পড়ে। ইতিমধ্যেই জ্বালানি তেলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দাম বেড়েছে দুধ ও রুটির।
