মৃত কন্যার থেকে ডিভোর্সি কন্যা অনেক ভালো। প্রাক্তন মিস পুণে তিশা শর্মার মৃত্যু মামলায় সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে একথা বললেন কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। পাশাপাশি শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, স্বাধীন সংস্থারই উচিত তিশার মৃত্যুর তদন্ত করা। একইসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকেও সাবধান করেছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ। উল্লেখ্য, বিয়ের মাত্র পাঁচ মাস পরেই শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হয় তিশার ঝুলন্ত দেহ।
তিশার মৃত্যুতে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা গ্রহণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রাক্তন মিস পুণের মৃত্যুতে আঙুল উঠছে তাঁর শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের দিকে। সোমবার প্রধান বিচারপতি, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চে মামলার শুনানি শুরু হয়। প্রথমেই সংবাদমাধ্যমকে সাবধান করেছে এই বেঞ্চ। যেহেতু তিশার স্বামী আইনজীবী এবং শাশুড়ি প্রাক্তন বিচারক, তাই তদন্তকে প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে। এমনকী সংবাদমাধ্যমের একাংশে এমনটাও বলা হয়, অভিযুক্তদের বিচার আটকে দিচ্ছে আইনবিভাগ।
শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, প্রকাশ্যে এমন মন্তব্য করা মোটেই উচিত নয়। অভিযুক্তরা আইনবিভাগের সঙ্গে যুক্ত বলে তাদের বিচার হচ্ছে না, এমনটা ঠিক নয়। সঠিক বিচার নিশ্চিত করার জন্য স্বাধীন সংস্থাকে তদন্তভার নিতে হবে। ইতিমধ্যেই সিবিআইকে তদন্তভার দিয়েছে মধ্যপ্রদেশ সরকার। সেই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছে, "খবর রটানো হচ্ছিল যে আইনবিভাগের যোগ রয়েছে বলে সঠিক বিচার হচ্ছে না। সেকারণেই স্বতঃপ্রণোদিত মামলা নেওয়া উচিত ছিল সুপ্রিম কোর্টের।"
শুনানি চলাকালীন মধ্যপ্রদেশ সরকারের তরফ থেকে সলিসিটর জেনারেল বলেন, "শ্বশুরবাড়িতে এমন দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটার থেকে তো মেয়ে ডিভোর্সি হওয়া অনেক ভালো।" তিশার শাশুড়ি নানা জায়গায় গিয়ে মৃত বউমার নামে কুকথা রটাচ্ছেন, এমনটাও জানান সলিসিটর জেনারেল। পণের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন তিশা, এমনটাই জানিয়েছেন তাঁর মা-বাবা। আপাতত গোটা ঘটনার তদন্ত করছে সিবিআই। মৃত্যুর ১২ দিন পর তিশার শেষকৃত্য সাধিত হয়েছে রবিবার।
