যুদ্ধের আগুন পুড়ছে শেয়ার বাজার! সোমবার সকালে একধাক্কায় ২০০০ পয়েন্টের বেশি নেমে সেনসেক্স হয়েছে ৭৬,৭৪১.২৯। পাল্লা দিয়ে পতন হয়েছে নিফটিরও। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, যুদ্ধের ফলে জ্বালানি তেল পরিবহণের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালী বন্ধ। এই অবস্থায় বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম। যার ব্যাপক প্রভাব পড়ছে ভারতের বাজারে। এছাড়াও বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যের ঝুঁকি তীব্রতর হওয়ায় বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ভারতের বাজার থেকে অর্থ তুলে নিচ্ছেন। বিনিয়োগকারীদের এই মনোভাবই প্রতিফলিত হচ্ছে শেয়ার বাজারে।
সোমবার সকাল ৯টা বেজে ১৮ মিনিট অবধি সেনসেক্স পড়েছে ২,১৭৭.৬১ পয়েন্ট। এর ফলে সেনসেক্স দাঁড়িয়েছে ৭৬,৭৪১.২৯ পয়েন্টে। অন্যদিকে নিফটি ৬৪৭.৬০ পয়েন্টে পড়ে হয়েছে ২৩,৮০২.৮৫ পয়েন্ট। শেয়ার বাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, যুদ্ধের বাজারে সবচেয়ে বেশি করে রক্তাক্ত হয়েছে ব্য়াঙ্কিং, আইটি সেক্টর এবং ধাতব সংস্থার স্টকগুলি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রিয়ারি ইরানের মাটিতে যৌথ হামলা চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছে তেহরান-সহ ইরানের একাধিক অঞ্চল। হামলায় মৃত্যু হয়েছে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর। জবাবে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা আমেরিকার একাধিক সেনাঘাঁটি ও ইজরায়েলে হামলা চালাচ্ছে ইরান। কুয়েত, বাহরিন, ওমান, জর্ডন, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব, সিরিয়া, তুরস্কের উপর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। যুদ্ধে ইরানে মৃতের সংখ্যা দু'হাজার ছাড়িয়েছে। রাশিয়া, চিন, স্পেন, ভারত-সহ একাধিক দেশ শান্তিপ্রস্তাব দিলেও কোনও পক্ষই যুদ্ধ থেকে সরতে রাজি নয়।
এই অবস্থায় গোটা বিশ্বের তেলের বাজার ক্ষতিগ্রস্ত। একে তো মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলিও সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে, অন্যদিকে বন্ধ হয়ে গিয়েছে হরমুজ প্রণালী। ফলে নতুন করে কোনও তেলবাহী জাহাজ ভারত মহাসাগরে ঢুকতে পারছে না। সব মিলিয়ে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যের ঝুঁকি বাড়ছে। সাবধানী বিনিয়োগকারীরা বাজার থেকে অর্থ তুলে নিচ্ছেন। এই সব কিছুই প্রতিফলিত হচ্ছে শেয়ার বাজারে।
