হাতছাড়া হয়েছে বিশ্বকাপ। এবার 'চাকরি'ও হারাবেন আর্জেন্টিনা ফুটবলাররা (Argentina Players)? সূত্রের খবর, আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের বিরুদ্ধে বড়সড় পদক্ষেপ করতে পারে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ। বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর রাজনৈতিক ব্যানার নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন লিওনেল মেসিরা। সেই নিয়ে ইতিমধ্যেই ফিফার কাছে তদন্তের অনুরোধ করেছে ব্রিটিশ সরকার। এবার সরকার নিজেই আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের বড় শাস্তি দিতে পারে। ইংল্যান্ডে প্রবেশের পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে তাঁদের। ফলে প্রিমিয়ার লিগেও আর খেলতে পারবেন না আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা।
বর্তমানে আর্জেন্টিনার তিন ফুটবলার খেলেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে-ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, চেলসির এনজো ফার্নান্ডেজ এবং টটেনহ্যামের ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। কিন্তু ইংল্যান্ডকে হারানোর পরে তাঁরাই ফকল্যান্ড আইল্যান্ডের রাজনৈতিক ব্যানার নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন। খেলার মাঠে রাজনীতির অভিযোগে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। কিন্তু ব্রিটিশ প্রশাসনও আলাদা করে এই নিয়ে পদক্ষেপ করতে চাইছে। তার জন্য ইতিমধ্যেই আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে শুরু হয়েছে আলোচনা।
প্রাথমিকভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে যেসব আর্জেন্টাইন ফুটবলার প্রিমিয়ার লিগে খেলেন বিপুল অর্থের বিনিময়ে, তাঁদের ব্রিটিশ ভিসা বাতিল করতে। যেভাবে ইংল্যান্ডে খেলা ফুটবলাররাই এগিয়ে এসে রাজনৈতিকভাবে ইংল্যান্ডর বিরোধিতা করেছেন, সেটা একেবারে বরদাস্ত করা হবে না বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। ইংরেজ ভক্তকুলও সেটাই চাইছেন। তাঁদের মতে, নিজেদের আচরণের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। নয়তো ভিসা বাতিলটাই প্রয়োজন। যদিও ব্রিটিশ অভিবাসন আধিকারিকদের অনেকে মনে করছেন, স্রেফ ব্যানার দেখানোর অভিযোগে ভিসা বাতিলের মতো কঠোর পদক্ষেপ করাটা বেশ কঠিন।
ইংল্যান্ড এবং আর্জেন্টিনার মধ্যে দীর্ঘদিনের শত্রুতা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে নিয়ে। অতীতে সেই নিয়ে যুদ্ধে ব্রিটেনের কাছে হেরেছে মেসিদের দেশ। কিন্তু বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের পর প্রবল উত্তেজনা ছড়ায় মাঠে। দুই পক্ষের ফুটবলাররা বিবাদে জড়ান। জটলা হয়। সেসবের মাঝেই ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি উসকে একটি ব্যানার হাতে নিয়ে মাঠে নেমে পড়েন মেসিরা। ওই ব্যানারে লেখা ছিল, “‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস।’ অর্থাৎ ‘মালভিনাস আমাদেরই।’ ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে আর্জেন্টিনায় মালভিনাস বলে ডাকেন। ফকল্যান্ড আইল্যান্ডের ‘মালিকানা’ দাবি করে মেসিরা যেভাবে পোস্টার নিয়ে মাঠে নেমেছেন, সেটার তীব্র বিরোধিতা করেছে ইংল্যান্ড।
