সরকার ও বিরোধী পক্ষের বিধায়কদের ধুন্ধুমার বিক্ষোভে শুক্রবার অশান্ত হল জম্মু ও কাশ্মীর (Jammu and Kashmir) বিধানসভা। প্রধান শাসকদল ন্যাশনাল কনফারেন্স-সহ উপত্যকার আঞ্চলিক দলগুলি ইরানে ইজরায়েল ও আমেরিকার হামলা এবং আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর হত্যার প্রতিবাদে সরব হলেন। তাঁদের হাতে ছিল প্রয়াত ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ছবি। অন্যদিকে জম্মুতে একটি জাতীয় আইন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন বিজেপি বিধায়করা। সব মিলিয়ে হট্টগোল তুমুল হলে অধিবেশন মুলতুবি করেন স্পিকার আবদুল রহিম রাঠের।
স্পিকার বারবার শৃঙ্খলা বজায় রাখার আবেদন করলেও বিভিন্ন দলীয় সদস্যরা স্লোগান দিয়ে, প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে এবং সংসদের ওয়েলে ভিড় জমিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্ব ব্যাহত করেন। ২ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ছিল প্রথম পর্বের অধিবেশন। পাঁচ সপ্তাহের বিরতির শেষে ২৭ মার্চ জম্মুতে বিধানসভার বাজেট অধিবেশন পুনরায় শুরু হয়েছিল। সেদিনই অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হল। শাসক দল জম্মু ও কাশ্মীর ন্যাশনাল কনফারেন্স (জেকেএনসি), কংগ্রেস, সিপিআই(এম), নির্দল এবং বিরোধী দল পিডিপির বিধায়করা খামেনেই হত্যার নিন্দা জানিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বেশ কয়েকজন বিধায়ক খামেনেইর পোস্টার নিয়ে, হাতে কালো ফিতে বেধে বিধানসভায় ইজরায়েল ও আমেরিকার বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।
এই সময় সরব হন উপত্যকার বিরোধী দল বিজেপির বিধায়করাও। তাঁরা 'ভারত মাতা কি জয়' স্লোগান দিতে থাকেন। প্ল্যাকার্ড হাতে জম্মুতে একটি আইন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানান। পরে জেকেএনসি বিধায়ক তানভির সাদিক বলেন, "আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তাঁর দল এবং জম্মু ও কাশ্মীর সরকার ইরানের পাশে রয়েছে।" যোগ করেন, "কোনও দেশের অন্য দেশকে আক্রমণ করার অধিকার নেই।" পাশাপাশি সাদিক ভারতের শীর্ষ নেতৃত্বকে ইরানে হামলার নিন্দা জানানোর আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, ইরান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর হত্যার পরেই প্রতিবাদে পথে নেমেছিল জম্মু ও কাশ্মীর। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শ্রীনগরে ইজারায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি পুড়িয়ে প্রতিবাদ দেখান পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (পিডিপি) প্রধান মেহবুবা মুফতি। পাশাপাশি ইরানকে সাহায্য করতে সোনা, রুপো, নগদ টাকা সংগ্রহ করছেন ভূস্বর্গের বাসিন্দাদের একাংশ।
