ছাত্র-যুবদের লাগাতার আন্দোলনে চাপ বাড়ছে ঝাড়খণ্ডের হেমন্ত সোরেন সরকারের উপর। সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তোলা আন্দোলনকারীরা রবিবার সন্ধ্যায় রাঁচিতে হেমন্ত সোরেন এবং রাহুল গাঁধীর কুশপুতুল দাহ করলেন। এইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে হেমন্তের ইস্তফার দাবি তুলছেন তাঁরা। এছাড়াও আগামী বৃহস্পতিবার নতুন কর্মসূচি--- মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাওয়ের ডাক দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দুর্নীতির প্রতিবাদে গত ২৩ দিন ধরে লাগাতার আন্দোলন চালাচ্ছে ঝাড়খণ্ডের তরুণ প্রজন্ম। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। রাজধানী রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে ‘জেপিএসসি-জেএসএসসি রিফর্মস মঞ্চ’ লাগাতার বিক্ষোভ প্রদর্শন হচ্ছে। তাঁদের দাবি, নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা, দুর্নীতির অভিযোগ ওঠা বেশ কয়েকটি পরীক্ষা বাতিল, সিবিআই অথবা ঝাড়খণ্ডের বাইরের অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের নিয়ে গঠিত প্যানেলকে দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।
পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল উঠছে ঝাড়খণ্ড সরকারের জন্যে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, জেএমএম-কংগ্রেস জোট সরকার তাঁদের দাবিগুলির প্রেক্ষিতে কোনও পদক্ষেপ করছে না। এই কারণেই এবার হেমন্ত সোরনের পদত্যাগের দাবিতে তাঁর বাসভবন ঘেরাওয়ের কর্মসূচি নিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। উল্লেখ্য, শনিবারই কংগ্রেসের উদ্দেশে বার্তা দেন আন্দোলনকারী ছাত্র-যুবরা। তাঁদের দাবি, ঝাড়খণ্ডের শাসকজোট থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করুক কংগ্রেস।
এই বিষয়ে রাজ্য বা সর্বভারতীয় স্তরের কংগ্রেস নেতারা এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেননি। এই অবস্থায় রাঁচি-সহ ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলনকারীরা দাহ করলেন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্তের সোরেনের পাশাপশি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং আরজেডির তেজস্বী যাদবের কুশপুতুল। এইসঙ্গে আগামী ২০ অগস্ট মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাওয়ের ডাক দিয়েছেন তাঁরা। হেমন্তের পদত্যাগেরও দাবি জানিয়েছেন। বলা বাহুল্য, পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে।
