‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে মোদি সরকারের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের পথে কংগ্রেস। কেরল আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এবার কংগ্রেস শাসিত কর্নাটকও জানিয়ে দিল জাতীয় গানের প্রথম দুটি স্তবকই গাওয়া হবে সরকারি অনুষ্ঠানে। পুরো গান কোনওভাবেই গাওয়া হবে না। যার অর্থ কর্নাটকে এবার সাংবিধানিক সংকটের পরিস্থিতি।
স্বাধীনতা দিবসে কংগ্রেস সদর দপ্তরে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে বাধাদানের অভিযোগে সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে সোমবার দিল্লি পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ভাইরাল একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন করছেন কয়েকজন তরুণী। সেই সময় সোনিয়া এমন কিছু অঙ্গভঙ্গি করেন, যা দেখে মনে হচ্ছে তিনি কর্মীদের ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বন্ধের নির্দেশ দিচ্ছেন। সেই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিজেপি তেড়েফুঁড়ে আক্রমণ শানিয়েছে হাত শিবিরকে। নিজেদের দখলে থাকা রাজ্যগুলিতেও বন্দে মাতরম গাওয়া নিয়ে বিভ্রান্তিতে ছিল হাত শিবির। কেরলে বন্দে মাতরমের ২টি স্তবক গাওয়া হলেও কংগ্রেসওয়ের দখলে থাকা কর্নাটকে ৬টি স্তবকের পূর্ণাঙ্গ গানটিই গাওয়া হয়।
এবার কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী শিবকুমারও (DK Shivakumar) আগের অবস্থান থেকে সরে এলেন। তিনি জানিয়ে দিলেন, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে তাঁর অজ্ঞতাবশত বন্দে মাতরমের ৬টি স্তবক গাওয়া হয়েছিল। এবার থেকে আর সেটা হবে না। দল যেটা ঠিক করেছে, সেটাই হবে। এবার থেকে বন্দে মাতরমের ২টি স্তবকই গাওয়া হবে কর্নাটকের সব সরকারি অনুষ্ঠানে। ডিকে শিবকুমার জানিয়েছেন, "স্বাধীনতা দিবসে কোনও অনুষ্ঠানে আমার অগোচরে বা রাজভবনে হয়তো পুরো বন্দে মাতরম গাওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমি ঠিক করেছি আগামী দিনে শুধু দুটি স্তবকই গাওয়া হবে। দল হিসাবে আমরা যা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমরা সেটাই মেনে চলব।" আসলে কংগ্রেস ঠিক করে ফেলেছে, ছ’টি স্তবকের পুরো গান নয়, বরং ঐতিহাসিকভাবে গানটির যে দু’টি স্তবক কংগ্রেসের অধিবেশনগুলিতে গাওয়া হয়, সেটাই আগামী দিনেও গাওয়া হবে। মোদি সরকার যে পুরো গান গাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, সেটা মানা হবে না। সেই পথেই হাঁটছে কর্নাটক।
সমস্যা হল, কেন্দ্র সংসদে আইন এনে বন্দে মাতরম গাওয়ার নিয়ম ঘোষণা করেছে। সেই আইন গোটা দেশ মানতে বাধ্য। কিন্তু দেশের একটা অঙ্গরাজ্যই যদি সেটা প্রকাশ্যে মানতে অস্বীকার করে তাহলে সাংগঠনিক সংকটের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এক্ষেত্রে কেন্দ্র কী পদক্ষেপ করে সেটাই দেখার।
