এআই পৃথিবীতে সেকেলে শিক্ষানীতি বদলে ফেলছে চিন। ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ১২, ২০০টি পুরনো স্নাতক ডিগ্রির পাঠক্রম বন্ধ করে দিয়েছে শি জিন পিংয়ের দেশ। শেষ পরন্ত যুগের দাবি মেনে ভারতও কতকটা সেই পথে হাঁটল। পথ দেখাল দক্ষিণের রাজ্য কর্নাটক। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার জানালেন, বেঙ্গালুরুতে তৈরি হবে দেশের প্রথম এআই বিশ্ববিদ্যালয়। এই কাজে সহযোগী করা হবে বেসরকারি প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে। এর জন্য বেঙ্গালুরু-সহ গোটা কর্নাটকের পরিকাঠামো বদলে ফেলা হবে।
শুক্রবার বিভিন্ন সংস্থার কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে করেন কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে শিবকুমার বলেন, বেঙ্গালুরুর সবচেয়ে বড় শক্তি হল দক্ষ জনশক্তি ও উদ্ভাবনী পরিবেশ। ভারতের প্রযুক্তি-রাজধানী হিসেবে শহরটির উত্থানের কৃতিত্ব স্থানীয় মানুষ ও সংস্থাগুলির। শিবকুমার বলেন, আপনারেই বেঙ্গালুরু এবং কর্নাটকের দূত। কয়েক দশক আগে যারা এই শহরে এসেছিলেন, তাঁরা এখানকার সুযোগ-সুবিধা ও প্রতিভার উপস্থিতির কারণেই এখানে থেকে গিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী শিবকুমার বলেন, সরকার ইতিমধ্যেই ডিপ-টেক, ডিজিটাল পরিকাঠামো, গবেষণা, শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতায় নতুন আইটি, মহাকাশ প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ নীতি চালু করেছে। পাশাপাশি উদীয়মান প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণের গতি বাড়াতে কর্ণাটক তাদের ‘কোয়ান্টাম রোডম্যাপ’ও প্রকাশ করেছে। শিবকুমার আরও জানান, শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে রাজ্য একটি এআই বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলছে।
শিবকুমার ‘বেঙ্গালুরু রোবোটিক্স অ্যান্ড ইনোভেশন জোন’ এবং ‘টেকসই ডেটা সেন্টার নীতি ২০২৬-৩১’-এর কথাও ঘোষণা করেন। এই উদ্যোগগুলোর লক্ষ্য হল জমি, বিদ্যুৎ, জল,যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পুনর্নবীকরণ শক্তির সহায়তায় পরিবেশগতভাবে টেকসই ডিজিটাল পরিকাঠামো গড়ে তোলা। আঞ্চলিক উন্নয়নের ভারসাম্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে, উন্নয়নের ধারা কেবল বেঙ্গালুরুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। কর্নাটকজুড়ে তা ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
