সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে খুন করা হয় কাঠুয়ার নাবালিকাকে। এমনটাই দাবি ঘটনার তদন্তকারীদের। কাঠুয়া ধর্ষণ-খুন কাণ্ডে অন্যতম মূল অভিযুক্ত সাঞ্জি রামকে জেরা করেই মিলেছে এই তথ্য। সে জানিয়েছে, নাবালিকাকে অপহরণ করে আটকে রাখার ঘটনা জানতে পারার পর ছেলেকে বাঁচাতে শিশুটিকে খুনের পরিকল্পনা করে সে।
[কাঠুয়া কাণ্ডের ছায়া, রাজস্থানের মন্দিরে নাবালিকাকে ধর্ষণে অভিযুক্ত পুরোহিত]
এদিকে, শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট কাঠুয়া ধর্ষণ-খুন মামলা স্থানান্তরের শুনানি স্থগিত রাখে। সেই সঙ্গে মামলা জম্মু ও কাশ্মীর থেকে চণ্ডীগড়ে স্থানান্তরের আবেদনের মামলায় অভিযুক্তদের মত জানতে চাওয়া হয়। তদন্তকারীদের জেরায় সাঞ্জি রাম বলেছে, নাবালিকা মেয়েটিকে অপহরণের চারদিন পর সে গোটা ঘটনাটির কথা জানতে পারে। এরপরই নিজের ছেলেকে বাঁচাতে মেয়েটিকে খুন করার পরিকল্পনা করে সাঞ্জি রাম। পুলিশ জানিয়েছে, সাঞ্জি রামেরই ভাইপো ১০ জানুয়ারি শিশুটিকে অপহরণ এবং ধর্ষণ করে। এরপর ওই মন্দিরে আটকে রাখার পর সঞ্জি রামের ছেলেও ওই কুকর্মে যুক্ত হয়। লাগাতার বেশ কয়েকদিন এই অত্যাচার চলে। জানা যাচ্ছে, ১৩ জানুয়ারি কোনও একটি কাজ না করতে চাওয়ায় সাঞ্জি রাম তার ভাইপোকে মারধর করে। তখনই ভাইপো ভাবে কাকা বুঝি সমস্ত খবর জানতে পেরেছে। এরপরই সে সমস্ত ঘটনা সাঞ্জি রামকে বলে। নিজের ছেলেও জড়িত দেখে সাঞ্জি রাম আট বছরের শিশুটিকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে। সেই মতো ১৪ জানুয়ারি শিশুটিকে খুন করা হয়। পরে দেহ ফেলে দেওয়া হয় জঙ্গলে।
[কাঠুয়ায় ধর্ষণ হয়েছিল, সোশ্যাল মিডিয়ার ভুয়ো দাবি উড়িয়ে বিবৃতি পুলিশের]
কাঠুয়া খুন-ধর্ষণ মামলা জম্মু ও কাশ্মীর থেকে চণ্ডীগড়ে স্থানান্তরের আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা হয়েছে। এদিন প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র, বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় এবং বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটির শুনানি ৭ মে পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। এর আগে জম্মু ও কাশ্মীর সরকার এই আবেদনের বিরোধিতা করেছে। রাজ্য বলেছে, তাদের ভিন্ন দণ্ডবিধি রয়েছে এবং মামলা স্থানান্তর হলে সাক্ষীদের সেখানে হাজিরায় সমস্যা হবে। যদিও, শুক্রবারই কেন্দ্র জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
[কাঠুয়া কাণ্ডের অভিনব প্রতিবাদ, অভিযুক্তদের বাড়িতে পাঠানো হচ্ছে জুতো]
The post ছেলেকে বাঁচাতেই কাঠুয়ার নাবালিকাকে খুন, জেরায় কবুল সাঞ্জি রামের appeared first on Sangbad Pratidin.
