দেখতে দেখতে তিন মাস পেরিয়ে গিয়েছে আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের। শান্তিবৈঠকের পরও রফা মেলেনি। আপাতত যুদ্ধবিরতি থাকলেও সংঘর্ষ ফের পুরোদমে শুরু হতে পারে। এহেন পরিস্থিতিতে শোনা গিয়েছিল, মুখোমুখি বৈঠকে বসতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই। কিন্তু সেই গুঞ্জন উড়িয়ে দিল তেহরান।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে মোজতবার সামরিক পরামর্শদাতা মহসিন রেজায়েই জানিয়েছেন, ট্রাম্প-খামেনেই সাক্ষাতের কোনও সম্ভাবনা নেই। সেই সঙ্গেই তিনি জানিয়েছেন, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নির্ভর করছে ট্রাম্প প্রশাসনের উপর। তারা ইরানের আটকে রাখা ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্ত করতে সম্মত হলে তবেই সেটা সম্ভব হবে। তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, ''ট্রাম্প যদি সমঝোতা চান, তাহলে ওই ২৪০০ কোটি ডলারের বিশ্বাসের পরীক্ষায় আমেরিকাকে পাশ করতে হবে। তাহলে আমাদের পক্ষে ওদের বিশ্বাস করা সম্ভব হবে। অচলাবস্থাও কাটবে। ওটা আমাদের অর্থ, কোনওভাবেই আমেরিকার নয়।'' এখন দেখার তাঁর এহেন মন্তব্যের জবাবে ওয়াশিংটন কী বলে।
প্রসঙ্গত, মোজতবা খামেনেইর সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখোমুখি বৈঠক যাবতীয় জটিলতা কাটতে পারে বলেই মনে করছিল ওয়াকিবহাল মহল। যদিও সেক্ষেত্রে দুই দেশকেই কিছুটা নমনীয় হতে হত। শুক্রবারই মোজতবার সঙ্গে দেখা করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘‘ওঁর সঙ্গে আমার দেখা হওয়া সম্ভব। তাতে আমার কোনও আপত্তি নেই।’’ এরপর থেকেই গাঢ় হতে থাকে জল্পনা। তাহলে কি এবার দুই রাষ্ট্রনেতা মুখোমুখি বসে ঠিক করবেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ? এবার কি ফিরবে স্থায়ী শান্তি? কিন্তু সেই সম্ভাবনা তেহরান উড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে ইরান যুদ্ধে নিজভূমেই ‘কোণঠাসা’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে পাশ হয়েছে প্রস্তাব। তাৎপর্যপূর্ণভাবে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন তাঁরই দলের নেতারা। যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়েছে ২১৫টি। আর বিপক্ষে ২০৮টি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে সামরিক অভিযান নিয়ে জোর ধাক্কা খেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ফলে যুদ্ধ যে তাঁর 'গলার কাঁটা' হয়ে গিয়েছে তাতে সন্দেহ নেই।
