বাংলায় বিধানসভা ভোট মিটতেই মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে রাজ্যের মুখ্যসচিব হিসাবে নিয়োগ করে বিজেপি সরকার। যা নিয়ে সেসময় তৃণমূলের সুর ধরে সমালোচনা করেছিল কংগ্রেসও। রাহুল গান্ধীরা বলেছিলেন, ভোটে বিজেপির হয়ে কাজ করার পুরস্কার দেওয়া হল মনোজকে। কিন্তু ঘটনাচক্রে বাংলার মতো নিজেদের দখলে আসা রাজ্য কেরলে একই কাণ্ড ঘটাল কংগ্রেস। কেরলেও নতুন মুখ্য সচিব হিসাবে নিয়োগ করা হল ভোটের সময়কার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে।
রতন ইউ কেলকর। দক্ষ আইএএস আধিকারিক। কেরলের বিধানসভা নির্বাচন সামলেছিলেন তিনি। ছিলেন কেরলের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। তাঁকেই নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ভিডি সতীশন নিজের মুখ্যসচিব হিসাবে ঘোষণা করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই এই নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলা শুরু করে দিয়েছে বাম ও বিজেপি। বামেদের প্রশ্ন, রতন ইউ কেলকরকে ভোটের আগে কেরলের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক হিসাবে নিয়োগ করা নিয়েই প্রশ্ন উঠছিল। তাঁকেই আবার মুখ্যসচিব নিয়োগ করা হল কেন? কংগ্রেসের যুক্তি, কেলকর একজন দক্ষ আইএএস আধিকারিক। তাঁর দক্ষতাকেই কাজে লাগাতে চায় কংগ্রেস। এতে বিতর্কের কিছু নেই।
কিন্তু বিজেপি ছাড়তে নারাজ। আসলে বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপি যখন মনোজ আগরওয়ালকে সিইও পদ থেকে সোজা মুখ্যসচিব করার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন সবচেয়ে জোরালোভাবে প্রশ্ন তুলেছিলেন রাহুল গান্ধীই। তিনি সেসময় বলেন, "ভোটের সময় যে যত বড় চুরি করেছে তাঁকে তত বড় পদে বসাচ্ছে বিজেপি।' কংগ্রেসের বক্তব্য ছিল, এসআইআর থেকে শুরু করে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কারচুপিতে সাহায্য করার পুরস্কার হিসাবেই মনোজ আগরওয়ালকে সিইও এবং স্পেশ্যাল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্তকে মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শদাতা করেছে বিজেপি।
এখন বিজেপি সিপিএমের প্রশ্ন, তাহলে কেরলে কোন যুক্তিতে ভোটের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিককে মুখ্যসচিব করা হল? বিজেপি নেতা কে সুরেন্দ্রনের প্রশ্ন, ‘রাহুলজি, কেরলে কী হল, এটা কি চুরির পুরস্কার না কি হঠাৎ করে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য?’
