সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কেরলের পিনারাই বিজয়ন নেতৃত্বাধীন সিপিএম সরকার স্কুলে 'জুম্বা' নাচের মাধ্যমে শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখার শিক্ষা পদ্ধতি চালু করেছে। মূলত মাদক বিরোধী প্রচার ও নেশার হাত থেকে বাঁচাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেরল শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশে স্কুলে স্কুলে জুম্বা নাচ চালু করা নিয়ে কট্টরপন্থী মুসলিম সংগঠনগুলি খেপে লাল হয়ে গিয়েছে। স্বল্প পোশাকে ছেলেমেয়েরা বিদেশি বাজনার তালে তালে একসঙ্গে নাচবে বলে প্রচার চালাতে শুরু করে দিয়েছে মুসলিম সংগঠনগুলি।
যদিও এর জবাবে শনিবার কেরলের শিক্ষামন্ত্রী ভি শিবাঙ্কট্টি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত থেকে কোনওমতেই পিছু হটবে না সরকার। মুসলিম সংগঠনগুলির বিভ্রান্তিমূলক প্রচারের মুখে মাথা নোয়ানো হবে না। জুম্বা ডান্স চলবে স্কুলে স্কুলে। সরকারি সিদ্ধান্তকে সংখ্যাগরিষ্ঠবাদী সাম্প্রদায়িক প্রবণতা বলার জবাবে মন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, "রাজ্যপোষিত স্কুলগুলিতে শারীরচর্চার শিক্ষা হিসাবে জুম্বা নাচ চলবে, এর হেরফের হবে না।"
পাশাপাশি, শিবাঙ্কট্টি আরও বলেন, "বহু রাজ্য যখন মুসলিম মেয়েদের হিজাব পরার বিরোধিতা করেছিল, তখন আমরা প্রগতিশীল অবস্থান নিয়েছিলাম। কিন্তু এখন কিছু সংগঠন বস্তাপচা রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গিতে সংস্কৃতি চুলোয় যাচ্ছে বলে গলা ফাটাবে বললেই হল!" এই নাচের মাধ্যমে শরীর ঠিক রাখার সিদ্ধান্তে ইচ্ছাকৃত ধর্মীয় রং চড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে নিন্দা করেন তিনি।
সমালোচনার জবাবে শিবাঙ্কট্টি বলেন, কেরলে ইতিমধ্যেই ৯০ শতাংশ সরকারি স্কুলে জুম্বা নাচ-সহ শারীরিক প্রশিক্ষণ চালু হয়ে গিয়েছে। এতে বাচ্চাদের শরীর ও মন দুয়েরই বিকাশ হবে। কিন্তু, মন্ত্রীর এই কড়া জবাবের আগেই মুসলিম সংগঠনগুলি বাম সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের চেষ্টায় নামে। সমস্ত কেরল জেম-ইয়াতুল উলামা নামে ইসলামি ধর্মগুরুদের সংগঠন এর বিরোধিতায় নেমেছে।
