সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ধর্মের ভিত্তিতে দেশে রক্ত ঝরানোর ছক কষেছিল খলিস্তানিরা! এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের গোয়েন্দা রিপোর্টে। মণিপুর, তামিলনাড়ু ইত্যাদি রাজ্যগুলিতে সংখ্যালঘুদের উসকানি দিয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিল গুরপতবন্ত সিং পান্নুনের সংগঠন শিখ ফর জাস্টিস। দলিতদেরও উসকানি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।

২০২০ সালের জুলাই মাসে পান্নুনের এসএফজেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। তারপর থেকেই দেশের নানা প্রান্তে বিচ্ছিন্নতাবাদের আগুনে ঘি ঢালার কাজে আরও বেশি করে ঝাঁপিয়ে পড়ে খলিস্তানি সংগঠনের সদস্যরা। গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, "সংখ্যালঘুদের আবেগের অপব্যবহার করা হত। মণিপুরে খ্রিস্টানদের বলা হত পৃথক দেশের দাবিতে সুর চড়ানোর জন্য। একইভাবে তামিলদের দ্রাবিড়স্তানের দাবি জানানোর জন্য উসকানি দেওয়া হত। 'সংখ্যালঘু নির্যাতনে'র কথা মনে করিয়ে মুসলিমদের বলা হত, তারা যেন উর্দিস্তান গঠনের চেষ্টা করে।"
এছাড়াও কৃষক বিলকে কেন্দ্র করে পাঞ্জাব-হরিয়ানার কৃষকদের উসকানি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে খলিস্তানিদের বিরুদ্ধে। একইভাবে মন্ত্রণা দেওয়া হয়েছে দলিতদেরও। একেকটি গোষ্ঠীকে এইভাবে উসকানি দিয়ে গোটা দেশে বিশৃঙ্খলা এবং সেখান থেকে সংঘর্ষ বাঁধানোর ছক কষেছিল খলিস্তানি সংগঠন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মে মাসে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এই নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।
গোয়েন্দাদের এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পরেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি মণিপুরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের নেপথ্যেও খলিস্তানিদের হাত রয়েছে? ২০২৩ সালের মে মাস থেকে লাগাতার জাতি সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়েছে উত্তর-পূর্বের রাজ্যটি। সেখানে খ্রিস্টানদের উসকানি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খলিস্তানিদের বিরুদ্ধে। এমনকি কানাডায় খলিস্তানি নিয়ন্ত্রিত গুরুদ্বার থেকে ভারতে সংখ্যালঘুদের অবস্থা নিয়ে তোপ দাগতেও দেখা গিয়েছে কুকি-জো নেতাকে। মণিপুর হিংসায় অন্তত ২৫০রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তার নেপথ্যে কি খলিস্তানিরা?