আদ্যিকালের রীতিতে বদল এনে আরও আধুনিক হচ্ছে দেশের সংসদ। বর্তমান সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাংসদের হাজিরা নথিভুক্ত করতে এবার প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করছে লোকসভা। যেখানে সাংসদরা সংসদে প্রবেশের পর নিজের আসনে বসলে তবেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে হাজিরা নথিভুক্ত হবে। চলতি বাজেট অধিবেশন থেকেই চালু হচ্ছে এই নিয়ম। এর ফলে কোনও সাংসদ দেরি করে এলে কোপ পড়বে হাজিরায়। শুধু তাই নয়, কোপ পড়বে সাংসদদের বেতনেও।
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই বিষয়ে জানান, সংসদে সাংসদ হাজিরার বিষয়ে নয়া নিয়ম লাগু হতে চলেছে আসন্ন বাজেট অধিবেশন। নয়া নিয়মে সাংসদ সংসদে পৌঁছনোর পরই নিজের উপস্থিতি নথিভুক্ত করতে পারবেন। এতদিন পর্যন্ত সংসদের বাইরে হাজিরার রেজিস্টার খাতা থাকত। সেখানেই সই করতেন সাংসদরা। বহু ক্ষেত্রেই দেখা যেত সাংসদরা সেখানে সই করে চলে যেতেন, সংসদে প্রবেশ করতেন না। পড়ে সংসদ বন্ধ হওয়ার সময় আসতেন। অতীতের সেই নিয়ম এখন বদলে যাবে। সংসদে উপস্থিত থাকতেই হবে সাংসদদের।
নয়া নিয়মে অ্যাটেনডেন্স প্রক্রিয়া হবে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে। সাংসদ নিজের আসনে বসার পরই তা নথিভুক্ত হবে। এর ফলে যদি কোনও সাংসদ দেরি করে সংসদে আসেন বা বিরোধীদের হট্টগোলের জেরে যদি সংসদ মুলতুবি হয় সেক্ষেত্রে সাংসদদের সেদিনের উপস্থিতি নথিভুক্ত হবে না। যার ফলস্বরূপ সাংসদদের দৈনিক ভাতা এবং বেতনে কোপ পড়বে। শুধু তাই নয়, সংসদে বক্তৃতা অনুবাদও নির্ভুল করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিড়লা জানান, পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। এর ফলে বক্তৃতা অনুবাদ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত নির্ভুল হবে। তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির সাহায্যে এটি ১০০ শতাংশ নির্ভুল করার চেষ্টা চলছে। বর্তমানে, ওয়েবসাইটে কার্যবিবরণী আপলোড করতে অনুবাদ প্রক্রিয়াটি চার ঘন্টা সময় নেয়। এআই ব্যবহার করে, এটি আধ ঘন্টার মধ্যে সম্পন্ন হবে। স্পিকারের কথায়, আমরা চাই আধুনিক প্রযুক্তিকে সঙ্গী করে নির্ভুল ও সঠিক প্রক্রিয়ায় সংসদ পরিচালনা। তার জন্য যা যা করণীয় ধীরে ধীরে সেই পথেই এগোচ্ছি আমরা।
