যুদ্ধের বাজারে খবরে এলপিজি সিলিন্ডার। যদিও এক্ষেত্রে রান্নার গ্যাস নিয়ে হাহাকার নয়, বরং খুনে অভিযুক্তকে এলপিজি সিলিন্ডার বুকিংয়ের সূত্র ধরে পাকড়াও করল মধ্যপ্রদেশের পুলিশ। কীভাবে সম্ভব হল?
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৩ সালে। সন্দীপ তোমর নামে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রাক্তন ক্যাপ্টেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তিনি স্ত্রী শ্বেতা সিংকে খুন করেছেন। শুরুতে খুনের ঘটনাকে আত্মহত্যা হিসাবে চালিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করেন সন্দীপ। যদিও তদন্ত শুরু হতেই ধরা পড়েন তিনি। ২০১৪ সালে নিম্ন আদালত স্ত্রীকে খুনের অভিযোগে সন্দীপকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজা শোনায়। ২০১৯ সালে অন্তর্বর্তী জামিন পান তিনি। এর পর নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেও পুরনো রায় বহাল রাখে আদালত। ২০২২ সালে মামলা খারিজের পাশাপাশি সন্দীপকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয় আদালত। যদিও পলাতক হয় সন্দীপ।
দীর্ঘদিন হাজার চেষ্টাতেও অভিযুক্তের নাগাল পাচ্ছিল না পুলিশ। অন্যতম কারণ বারবার আস্তানা বদল। খুনের আসামী সাধারণ মানুষের সঙ্গে উন্মুক্ত পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াচ্ছে, এই অভিযোগ এনে দ্রুত গ্রেপ্তারির দাবি জানিয়ে হাই কোর্টে মামলা করেন শ্বেতার বাবা। এর পরে আদালত ভর্ৎসনার মুখে পড়ে পুলিশ। বিচারপতিরা জানতে চান, অভিযুক্তের গ্রেপ্তারিতে কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে। আগামী ৮ এপ্রিলের মধ্যে পাঞ্জাব পুলিশের ডিজিকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত।
আদালতের বকুনিতেই সম্ভবত কাজ হল। সম্প্রতি পুলিশের হাতে আসে সন্দীপের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য। যার সঙ্গে যুক্ত একটি প্যান কার্ড। যার মাধ্যমে সম্প্রতি একটি এলপিজি সিলিন্ডার বুক করেন অভিযুক্ত। এর পর ওই গ্যাস সংস্থার মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে, বর্তমানে মধ্যপ্রদেশের পান্ধুর্না জেলার ঠিক কোথায় থাকছেন তিনি। সেখানে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে স্ত্রীকে খুনে অভিযুক্ত সন্দীপ তোমরকে। শেষ পর্যন্ত এলপিজি সিলিন্ডার বুকিংই কাল হল!
