ঠিক যেন ব্যোমকেশের রহস্য কাহিনি! রাস্তার ধারে একটি দোকানের সামনে পড়ে থাকা সবজির ব্যাগে ছিল মিষ্টির প্যাকেট। দাবিহীন সেই মিষ্টি খেয়ে একের পর এক মৃত্যু! প্রাথমিক ভাবে পুলিশ ভেবেছিল বিষক্রিয়ায় মৃত্যু। অবশেষে পারিবারিক বিবাদে খুনের ঘটনা সামনে এল। প্রশ্ন হল, মিষ্টি খেয়ে মানুষ মরবে কেন?
মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়াড়া জেলায় মিষ্টি খেয়ে মৃত্যু হয়েছে এক মহিলা-সহ ৩ জনের। খাবারের ফরেনসিক পরীক্ষার পর নাটকীয় বাঁক নেয় তদন্ত। ওই রিপোর্টে দেখা যায়, মিষ্টিতে ছিল অতিরিক্ত মাত্রায় আর্সেনিক। আরও স্পষ্ট হয়, পারিবারিক বিবাদে পরিকল্পনা মাফিক আর্সেনিক মেশানো মিষ্টি রাখা ছিল ওই দোকানের সামনে।
ঘটনার সূত্রপাত ৯ জানুয়ারি। সেদিন ছিন্দওয়াড়ায় পাবলিক হেল্থ ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট অফিসের বাইরে একটি ব্যাগে কিছু সবজি এবং এক প্যাকেট মিষ্টি রাখা ছিল। কার ব্যাগ বোঝা যাচ্ছিল না। বিপদ ঘটে তখন, যখন ৫০ বছরের দশরু যদুবংশী নামের এক সিকিউরিটি গার্ড মিষ্টি চেখে দেখেন। ঘন ঘন বমি, ডায়েরিয়া আক্রান্ত হয় মৃত্যু হয় তাঁর। যদিও দশরু লক্ষ্য ছিল না ঘাতকদের। পরিকল্পনা সার্থক হয় তখন, যখন স্থানীয় দোকানদার নিজের বাড়িতে নিয়ে যান ওই মিষ্টি। এর পরে ২২ বছরের খুশবু এবং তাঁর ৭২ বছরের ঠাকুরদা, পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ওই মিষ্টি খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসা চলাকালীন খুশবু ও তাঁর ঠাকুরদার মৃত্যু হয়।
তদন্তে জানা গিয়েছে, গৃহবধূ খুশবুই ছিল টার্গেট। ২০২৪ সালে বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিলেন তরুণী। এর ফলে মুখ পোড়ে শ্বশুরবাড়ির। এর পরেই শ্বশুর, দেওর ও ননদ মিলে খুশবুকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। সেই কারণে খুশবুর বাবার দোকানের বাইরে ওই মিষ্টির প্যাকেট ফেলে রেখে পালিয়ে যান তাঁরা। যে মিষ্টিতে বিপজ্জনক মাত্রায় আর্সেনিক মেশানো হয়। তবে নিরাপত্তারক্ষী ওই মিষ্টি খাবেন তা ভাবেননি খুনিরা। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
