সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সংসদের বাদল অধিবেশন আগে প্রথমাফিক সর্বদল বৈঠক বসেছিল। বৈঠকে গো-রক্ষকদের তাণ্ডব রুখতে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারকেই কড়া ব্যবস্থা ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু, বিজেপিশাসিত মহারাষ্ট্রেই এখন গো-রক্ষকদের তাণ্ডবে থরহরি কম্প অবস্থা স্থানীয় কুরেশি ও গোয়ালি সম্প্রদায়ের মানুষদের। পারিবারিক ব্যবসা বন্ধ করে দিয়ে বাড়িতে বসে আছেন অনেকেই। কেউ কেউ আবার বিকল্প পেশা হিসেবে সবজি বিক্রি করছেন।
[মিটতে চলেছে ঘাটতি, জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্র কিনছে ভারতীয় সেনা]
মহারাষ্ট্রের এই কুরেশি ও গোয়ালি সম্প্রদায়ের মানুষ বংশপরম্পরায় মোষের দুধ ও মাংস বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু এখন পশুহাট বা পশুবাজারে গবাদি পশু বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মোদি সরকার। রাজ্যে বেড়েছে গো-রক্ষকদের তাণ্ডব। লাটে উঠেছে ব্যবসাপত্র। চরম আতঙ্কে দিন কাটছে এই কুরেশি ও গোয়ালি সম্প্রদায়ের মানুষদের। সম্প্রতি একটি সমীক্ষা দেখা গিয়েছে, মহারাষ্ট্রে মোষের দুধ ও মাংসের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ১৬ লক্ষ মানুষ। কিন্তু, গো-রক্ষকদের ভয়ে এখন ১১ লক্ষ মানুষ ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছেন। বস্তুত, কুরেশি ও গোয়ালি সম্প্রদায়ের অনেকে এখন বাড়িতেই বসে আছেন। কেউ কেউ আবার বিকল্প পেশা হিসেবে সবজির ব্যবসা শুরু করেছেন। সাফাত কুরেশির কথাই ধরা যাক। বিভিন্ন বাজারে ঘুরে ঘুরে মোষের মাংস বিক্রি করতেন সাফাত। সম্প্রতি প্রায় চার লক্ষ টাকা খরচ করে নিজের গবাদি পশু বহনকারী গাড়িটিতে এসি লাগিয়েছিলেন তিনি। গাড়িতে গবাদি পশুদের জন্য খাবার ও জল রাখারও ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু, গত বছরের সেপ্টেম্বরে মহারাষ্ট্রে দু’জায়গায় সাফাতের গবাদি পশু বহনকারী গাড়ি আটকায় গো-রক্ষকরা। গবাদি পশুগুলিকে আটক করে পুলিশ। আদালতে নির্দেশ সত্ত্বেও গবাদি পশুগুলিকে ফিরিয়ে দিতে অস্বীকার করে গো-রক্ষকরা। উলটে পালটা মামলা করা হয়। এখন মামলাটি বম্বে হাই কোর্টে বিচারাধীন। কিন্তু সাফাতের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা বন্ধ করে রাখা সম্ভব ছিল না। তাই বাধ্য হয়েই সবজি ব্যবসা শুরু করেছেন তিনি। সাফাত কুরেশি বলেন, ‘ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে গাড়ির পিছনে খরচ করেছিলাম। জানি না, এখন কী করে ঋণ শোধ করব।’ তবে সাফাত কুরেশি একা নন, কুরেশি ও গোয়ালি সম্প্রদায়ের বেশির ভাগ মানুষের এখন একই অবস্থা। এমনকী, মোষের দুধ বা মাংসের ব্যবসা করেন না। কুরেশি বা গোয়ালি সম্প্রদায়ের এমন অনেককেই হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।
[রেলের নয়া পদক্ষেপে এবার ১ টাকাতেই জল পাবেন যাত্রীরা]
মহারাষ্ট্রের স্টেট বিফ ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সাদিক কুরেশি বলেন, গো-রক্ষকদের ভয়ে প্রায় এক লক্ষ মানুষ ব্যবসা গোটাতে বাধ্য হয়েছেন। আর্থিক ক্ষতি তো আছেই, মামলার ঝক্কিও পোহাতে হচ্ছে। এমনকী, গো-শালার কর্মীরাও গবাদি পশুদের দেখভালের জন্য টাকা চাইছেন। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে আপাতত প্রশাসনের দিকেই তাকিয়ে আছেন কুরেশি ও গোয়ালি সম্প্রদায়ের মানুষ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মহারাষ্ট্রে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রণজিত প্যাটেল।
[জানেন, ফ্রি Wi-Fi পেলে ভারতীয়রা কী দেখেন?]
