পারিবারিক দ্বন্দ্ব মেটাতে সালিশিসভা ডেকেছিল পঞ্চায়েত। সেই বৈঠক চলাকালীন শাশুড়ি ও শ্যালককে কুপিয়ে খুন করলেন যুবক। হামলা চালিয়ে স্ত্রীকেও হত্যার চেষ্টা করেন তিনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তরুণী। পরে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে অভিযুক্ত যুবকের।
এই ঘটনা উত্তরপ্রদেশের বরেলি জেলার। পুলিশ জানিয়েছে, জোড়া খুনে অভিযুক্ত ৪০ বছরের আফসার খান। পেশায় অ্যাম্বুল্যান্স চালক তিনি। স্ত্রী ২৮ বছরের সাইমা। ন'বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়। সম্প্রতি একটি পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে মায়ের বাড়িতে ফিরে যান তরুণী। দু'পক্ষের অভিযোগ পাওয়ার পর সোমবার গ্রামে এই বিষয়ে সালিশিসভা বসেছিল। অভিযোগ, সেই ভরা সভায় একে একে ৫৪ বছরের শাশুড়ি আসমা এবং ২০ বছরের শ্যালক আদিলকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করেন আসিফ।
স্ত্রী সাইমাকেও কুপিয়ে খুনের চেষ্টা করেন। যদিও জনতা তেড়ে আসায় পালাতে বাধ্য হন। আশঙ্কাজনক সাইমাকে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশে খবর দেয় গ্রামবাসী। আসিফকে ধরতে দ্রুত তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে খবর মেলে, মুদিয়া আহমেদনগরে সাহারা ময়দানে দেখা গিয়েছে আসিফকে। সঙ্গে ছিল একটি লাইসেন্সহীন পিস্তল। পুলিশের অনুমান, স্ত্রীকে খুন করতেই হাসপাতালে যাচ্ছিলেন তিনি।
ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিরাট পুলিশ বাহিনী। চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে তাঁকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। যদিও সে উলটে গুলি চালায় পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে। আহত হন একজন কনস্টেবল। আত্মরক্ষায় পালটা গুলি চালায় পুলিশ। গুরুতর আহত হন আসিফ। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাঁর। অভিযুক্তের কাছ থেকে খুনে ব্যবহৃত ধারাল অস্ত্র এবং একটি পিস্তল উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, অতীতে আসিফ খুনের মতো অপরাধ করেছে। নিজের মামাকে হত্যা করেন তিনি। ওই মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয় তাঁর। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে গ্রামে ফেরেন। জেল খেটেও চরিত্র বদলায়নি আসিফ। কিছুদিন আগে চুরির ঘটনায় তাঁর নাম জড়ায়। এর পরেই জোড়া খুন।
