সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: টাকাকড়ি, ধন-সম্পদ না থাক, অন্তত প্রত্যেকের একটা নাম থাকে। সেটা একান্তই তার নিজস্ব সম্পত্তি। প্রথম পরিচয়। বন্ধু বান্ধবদের ঠাট্টা রসিকতাতে তা যে বিকৃত হয় না, তা নয়। কিন্তু নামে কী এসে যায় বললেই তো আর সব চুকে যায় না। মানুষের প্রথম অধিকারবোধ বোধহয় এই নামকেই ঘিরে জন্মায়। এহেন নামই কিনা নেই একজন মানুষের। তাও আবার হয়! অবাক লাগলেও তা হয়েছে খাস দিল্লিতেই। এমন এক ব্যক্তির খোঁজ মিলছে যাঁর কোনও নামই নেই।
[ এ কেমন ইউনিফর্ম? ছাত্রীদের পোশাক ঘিরে বিতর্ক নেটদুনিয়ায় ]
না আছে তাঁর কোনও ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, প্যান কার্ড, না অন্য কোনও পরিচয়পত্র। থাকবেই বা কী করে, তাঁর যে কোনও নাম নেই। কিন্তু কোনও ব্যক্তির নাম থাকবে না তা কী হয়? হয়েছে অন্তত তাই-ই। কেন না দিল্লির যে অঞ্চলে তিনি থাকেন, সেখানে তাঁর নাম কেউ জানে না। ভূ-ভারতে কেউ তাঁর নাম জানে কি না তা জানা নেই। আদতে পিছুটানহীন। বছর তিনেক আগে কোথা থেকে যে দিল্লির হজরত নিজামউদ্দিন বস্তি অঞ্চলে চলে আসেন। দেখতে অনেকটা মোঘল সম্রাটদের মতোই। চেহারা-দাড়ি বা তাঁর তাকানোর ভঙ্গিতে অনেকেই নবাবসুলভ আভিজাত্যের খোঁজ পেয়েছেন। কিন্তু খোঁজ মেলেনি তিনি কে, কোথা থেকে এসেছেন এসব তথ্যের। যখন থেকে তিনি এ তল্লাটে এসেছেন তখন তাঁকে কথা বলতে দেখেননি কেউই। এলাকাবাসীর ধারণা তিনি সম্ভবত কথা বলতে পারেন না। কথা বলতে যে খুব ইচ্ছুক এমনটাও নয়। চুপচাপই থাকতে পছন্দ করেন। বলা ভাল থাকেন নিজের মর্জিমাফিক। এলাকার মানুষ খেয়াল করে দেখেছেন, তিনি সম্ভবত কানে শুনতেও পান না।
[ ছাই ফেলতেও ভরসা বিকৃত যৌনতাতেই, বিতর্কে আমাজন ]
এহেন মানুষের চলে কী করে? এলাকাবাসীরা জানাচ্ছেন, ভবঘুরে মানুষটিকে দেখে কেমন যেন মায়া পড়ে গিয়েছে সকলের। স্থানীয় দোকানদাররাই তাঁকে দুবেলা এমনিই খাবার দেন। রাতে ফুলবিক্রেতাদের গাড়িতে বা ফুটপাথের উপর শুয়েই কাটিয়ে দেন। এভাবেই চলছে। কেউ আজ পর্যন্ত তাঁর কোনও নাম দেয়নি। কেউ তাঁর নাম জানেও না। হরেদরে দেখা যাচ্ছে, ভারতে তিনিই বোধহয় একমাত্র ব্যক্তি যাঁর কোন নাম পর্যন্তও নেই। ভবঘুরে, পাগল বা ভিখারিদের কিছু না কিছু থাকে। এমনকী ভিখারিদের থেকে সঞ্চয় হিসাবে লক্ষ টাকাও মিলেছে। কিন্তু আক্ষরিক অর্থেই এই ব্যক্তির সম্বল বলতে কিছু নেই। এমনকী নামও নেই।
The post জানেন, কেন এই ভারতীয়র কোনও নাম নেই? appeared first on Sangbad Pratidin.
