ফিরল ভোপালের ভয়াবহ স্মৃতি! তামিলনাড়ুর একটি কারখানায় বিষাক্ত অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক। ভয়ংকর এই দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। আহত বহু। তাঁদের উদ্ধার করে ইতিমধ্যেই হাসপাতালে ভর্তি করানো হচ্ছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) সদস্যরা।
পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার দুপুরে তিরুভাল্লুর জেলার পেরিয়াপালায়ামের কাছে ওই সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কারখানাটিতে বহু শ্রমিক কাজ করছিলেন। সেই সময় আচমকা দুর্ঘটনাটি ঘটে। ছড়িয়ে পড়ে বিষাক্ত অ্যামোনিয়া গ্যাস। জানা গিয়েছে, কাজ করতে করতে হঠাৎই শ্রমিকদের নাকে ঝাঁঝালো গন্ধ এসে লাগে। এরপরই অসুস্থ হয়ে পড়েন একের পর এক শ্রমিক। কেউ কেউ মাথা ঘুরে পড়ে যান, কেউ কেউ ঘটনাস্থলেই বমি করতে শুরু করেন। প্রত্যেক শ্রমিকেরই শুরু হয় শ্বাসকষ্ট। তড়িঘড়ি ৬৭ জনকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। আক্রান্ত শ্রমিকরা অধিকাংশই উত্তর ভারতের। দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। তবে মনে করা হচ্ছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, চিকিৎসাধীন অনেক শ্রমিকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
কিন্তু কীভাবে এই গ্যাস লিক হল? প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, কারখানাটির ‘মেজার ভালভ’ থেকেই গ্যাস নিঃসরণের ঘটনাটি ঘটেছে। সেখানে উপস্থিত রয়েছেন এনডিআরএফ-এর অন্তত ৩০ জন আধিকারিক। দুর্ঘটনায় ইতিমধ্যেই শোকপ্রকাশ করেছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থলপতি বিজয়। শুধু তাই নয়, ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তেরও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের একটি কমিটি। অন্যদিকে, মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।
