২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে দেশকে মাওবাদীমুক্ত করার শপথ নিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই সময়সীমার মধ্যেই কার্যত মাওমুক্ত হল ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চল। মঙ্গলবার সেখানে শেষ মাওবাদী কমান্ডার পাপা রাও আত্মসমর্পণ করলেন। তাঁর মাথার দাম ছিল ২৫ লক্ষ টাকা। এদিন শীর্ষ মাও নেতার সঙ্গে আরও ১৫ জন মাওমাদী সদস্য আত্মসমর্পণ করলেন। একই দিনে ওড়িশাতে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ মাওবাদী নেতা সুকরু আত্মসমর্পণ করেছেন। তাঁর মাথার দাম ছিল ৫৫ লক্ষ টাকা।
পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার বিজাপুরে জেলা সদর দপ্তরে আত্মসমর্পণ করেন পাপা। প্রশাসনের হাতে একে ৪৭, এসএলআর-সহ সমস্ত অস্ত্র তুলে দেন আত্মসর্পণকারী মাওবাদীরা। পাপা রাও আত্মসমর্পণ করায় দণ্ডকারণ্য অঞ্চলে মাওবাদীদের নেতৃত্ব দেওয়ার মতো বড় কোনও মাথা থাকল না। এই বিষয়ে ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণুদেও সাই বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চেয়েছিলেন দেশ মাওবাদী মুক্ত হোক। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন। আর কয়েক দিন পরই সেই সময়সীমা শেষ হচ্ছে। সুতরাং পাপা রাও যে আত্মসমর্পণ করছেন, এটা একটা ভালো খবর।’’ রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় শর্মা দাবি করেছেন, পাপা রাওয়ের আত্মসমর্পণের পর মাওবাদী মুক্ত হল রাজ্য। এই রাজ্যে মাওবাদীদের আরও কোনও শীর্ষ নেতা থাকল না।
মাওবাদী দমন অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ওড়িশার কন্ধমল পুলিশের অতিরিক্ত ডিজি সঞ্জীব পন্ডা জানিয়েছেন, কন্ধমল জেলায় অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন মাও শীর্ষনেতা সুকরু। দীর্ঘ দিন ধরেই তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি আত্মসমর্পণ করলেন। পুলিশের হাতে একে-৪৭ রাইফেল তুলে দিয়েছেন সুকরু। তাঁর সঙ্গে আরও মাও চার সদস্য এদিন আত্মসমর্পণ করেছেন।
