shono
Advertisement
Jharkhand

ছিলেন মাওবাদীদের 'থিঙ্ক ট্যাঙ্ক', বার্ধক্যের ভারে ঝাড়খণ্ডের কারাগারে মৃত্যু বাঙালি 'কিষাণদা'র

২০২১ সালে সারান্ডা যাওয়ার পথে সস্ত্রীক গ্রেপ্তার হয়েছিলেন কিষাণদা। তাঁর মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 03:22 PM Apr 04, 2026Updated: 03:22 PM Apr 04, 2026

জীবনভর সংগ্রামের পর বার্ধক্যের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ! বয়সের ভার নুয়ে ঝাড়খণ্ডের বিরসা মুন্ডা কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে প্রাণ হারালেন শীর্ষ মাওবাদী নেতা প্রশান্ত বসু ওরফে মনীশ ওরফে কিষাণদার। তিনি ছিলেন সিপিআই (মাওবাদী) পলিটব্যুরো সদস্য। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। ওই সংশোধনাগারে এখনও বিচারাধীন বন্দি হিসাবে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী শীলা মারান্ডি। কলকাতার যাদবপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন তিনি।

Advertisement

কিষাণদার বিরুদ্ধে ঝাড়খণ্ডে ৫০টি-সহ প্রায় একশোর বেশি খুন, নাশকতা, রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা রয়েছে। কিষাণদার মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা। রসায়ন নিয়ে পড়াশোনা করেন। তিনি প্রথমদিকে অনুশীলন সমিতির নেতা ছিলেন।

প্রয়াত মাওবাদী নেতা প্রশান্ত বসু ওরফে 'কিষাণদা'। ফাইল ছবি

১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ সালে সস্ত্রীক ওই মাও শীর্ষ নেতা কয়েকজন স্কোয়াড সদস্যদেরকে নিয়ে গাড়ি করে সারান্ডা থেকে পারশনাথ পাহাড়ে যাওয়ার পথে সরাইকেলা-খরসোওয়া জেলার কান্ডরা টোল প্লাজাতে ঝাড়খণ্ড পুলিশের এসটিএফ তাঁদের গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে ঝাড়খণ্ডে ৫০টি-সহ প্রায় একশোর বেশি খুন, নাশকতা, রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা রয়েছে। কিষাণদার মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা। রসায়ন নিয়ে পড়াশোনা করেন। তিনি প্রথমদিকে অনুশীলন সমিতির নেতা ছিলেন।

গ্রেপ্তারির পর থেকে তাঁদের নিরাপত্তার কারণে বিরসা মুন্ডা কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে ওই মাও দম্পতিকে পৃথকভাবে রাখা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন কিষাণদা। বৃহস্পতিবার ভোরে তীব্র শ্বাসকষ্ট হয়। তারপর তাঁকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে রাঁচির এক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। এদিন সেখানেই তার ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে দেহটি ময়নাতদন্ত হয়। বিধি অনুযায়ী, আপাতত তাঁর দেহটি সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। ঝাড়খণ্ড পুলিশ যোগাযোগ করেছে পরিবারের সঙ্গে। পরিবারের কেউ সৎকারের জন্য মৃতদেহটি নিতে চাইলে বিধি অনুযায়ী আবেদন করবেন। অন্যথায় নির্দিষ্ট সময়ের পর ঝাড়খণ্ড সরকার ওই শীর্ষ মাও নেতার দেহ সৎকার করবে।

মাওবাদী কমিউনিস্ট সেন্টারের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত বসু এবং সিপিআই (এমএল) পিউপিলস ওয়ারের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক গণপতির আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতেই অতি বামপন্থী দুটি দল এক হয়ে ২০০৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সিপিআই (মাওবাদী) বলে আত্মপ্রকাশ হয়। 

মাওবাদী কমিউনিস্ট সেন্টারের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত বসু এবং সিপিআই (এমএল) পিউপিলস ওয়ারের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক গণপতির আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতেই অতি বামপন্থী দুটি দল এক হয়ে ২০০৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সিপিআই (মাওবাদী) বলে আত্মপ্রকাশ হয়। পুলিশের হাতে ধরা পড়ার সময় তিনি মাওবাদীদের পলিটব্যুরোর সদস্য ছিলেন। পাশাপশি তাঁকে দলের 'সেকেন্ড ইন কমান্ড' বলা হতো। মূলত পার্টির রূপরেখা, কৌশল তিনি ঠিক করতেন। তাই তিনি দলের 'থিঙ্কট্যাঙ্ক'ও ছিলেন। কিষাণদা গ্রেপ্তার হওয়ার পরেই ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী দমনে একাধিক সাফল্য পায় যৌথ বাহিনী।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement