সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: চার বছর আগেই কি মৃত্যুকে দেখতে পেয়েছিলেন জঙ্গি হামলায় নিহত পুলিশকর্মী ফিরোজ আহমেদ দার? এমন প্রশ্নই উসকে দিচ্ছে চার বছর আগের তাঁর একটি ফেসবুক পোস্ট। যেখানে তিনি মৃত্যুর পর কবরে প্রথম রাত কেমন কাটবে তা বর্ণনা করেছিলেন। শুক্রবার অনন্তনাগের আচাবলে লস্কর জঙ্গিদের হামলায় শহিদ হন জম্মু ও কাশ্মীরের ৬ পুলিশকর্মী। তাঁদের মধ্যেই একজন ছিলেন সাব ইনস্পেক্টর ফিরোজ আহমেদ দার। তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পুলিশমহল থেকে শুরু করে পরিবার। কিন্তু ঠিক চার বছর আগে ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি তাঁর করা একটি ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। সেই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘কখনও চুপ করে নিজেকে প্রশ্ন করেছো, কবরে প্রথম রাতে তোমার কী হবে? সেই মুহূর্তের কথা ভাবো, যখন তোমার দেহ পরিষ্কার করে কবরে নিয়ে যাওয়া হবে। সেই দিনের কথা ভাবো, যখন সবাই তোমার দেহ কবরে বয়ে নিয়ে যাবে এবং ভাবো যখন পরিজনরা কাঁদবে। সেই মুহূর্তের কথা ভাবো, যখন তোমাকে দাফন করা হবে। একবার কল্পনা করো, কবরের মধ্যে তুমি, অন্ধকার গর্তে, একা তুমি। প্রচণ্ড অন্ধকার, তুমি সাহায্যের জন্য কাঁদবে, কিন্তু…!’
এইভাবেই মৃত্যুর পরের ধাপ বর্ণনা করেছিলেন ফিরোজ দার। বন্ধুদের চোখে ‘দাবাং’, ওয়ান ম্যান আর্মি ছিলেন ফিরোজ। হামেশাই নিজের ফেসবুকে কিছু না কিছু পোস্ট করতেন ফিরোজ। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তিনি অপেক্ষায় ছিলেন, কবে কাশ্মীর আবার শান্ত হবে। তবে সেই দিন আর দেখে যেতে পারলেন না ফিরোজ। শেষপর্যন্ত জঙ্গিদের গুলিতেই শহিদ হলেন তিনি। সেই অশান্ত কাশ্মীরেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন ফিরোজ। পুলওয়ামার ডোগরিপোরা গ্রামে পারিবারিক সমাধিস্থলেই তাঁকে দাফন করা হয়। চোখের জলে বীর ভূমিপুত্রকে বিদায় জানায় গোটা গ্রাম। তখনও পরিজনদের ফিরোজের সেই কবরের প্রথম রাতের ফেসবুক পোস্টের কথা মনে পড়ছিল। ৬ বছরের ছেলে ও ২ বছরের মেয়ে আর বাবাকে দেখতে পাবে না। ছোট্ট মন বুঝতেই পারছিল না, কেন গোটা গ্রাম এসে তাদের বাড়িতে জড়ো হয়েছে? ফিরোজের স্ত্রী মুবিনা আখতার এবং বৃদ্ধ বাবা-মা শোকে ভেঙে পড়েছিলেন।
[‘লস্করের জঙ্গি দলটাকেই মুছে দেব’, সহকর্মীর মৃত্যুতে শপথ পুলিশের]
ফিরোজের সহকর্মী থেকে শুরু করে তাঁর ব্যাচমেটরাও তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোকাহত। পিরোজের এক ব্যাচমেট সুনীল শর্মা ফেসবুকে বন্ধুর ছবি পোস্ট করে বিখ্যাত ‘এলওসি কারগিল’ ছবির ‘বস ইতনা ইয়াদ রহে, এক সাথি আউর ভি থা’ গানের কথা লেখেন। গোটা জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ ফিরোজের মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জানিয়েছে। একটাই আক্ষেপ সবার, কবরে কেমন কাটল প্রথম রাত, তা আর জানা হল না ফিরোজের কাছ থেকে।
The post চার বছর আগেই মৃত্যুকে দেখতে পেয়েছিলেন কাশ্মীরের শহিদ পুলিশ অফিসার! appeared first on Sangbad Pratidin.
