সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ২০১৩ সালে তাঁর সন্তানের মুণ্ডচ্ছেদ করেছিল পাকিস্তান। ল্যান্সনায়েক হেমরাজের সেই মৃত্যুর ঘটনা আজও দেশবাসীর স্মৃতিতে টাটকা। সাম্প্রতিক পাক বাহিনীর বর্বরতার প্রেক্ষিতে এবার সরব হলেন তাঁর মা। বললেন, সন্তান হারানোর যন্ত্রণা এবার অন্তত বুঝুক সরকার।
[ সাধের বাড়িতে আর ফেরা হল না শহিদ পরমজিতের ]
সোমবারই দুই ভারতীয় জওয়ানের মুণ্ডচ্ছেদ করেছে পাক বাহিনী। বর্বরোচিত এ আক্রমণের নিন্দা করেছে গোটা বিশ্ব। পাকিস্তানকে উচিত জবাব দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। এদিকে এক শহিদ প্রেমসাগরের কন্যা সরোজ জানিয়েছেন, তাঁর বাবার বলিদানের বদলায় যেন ৫০ পাকিস্তানির মাথা কাটা হয়। এই প্রেক্ষিতেই সরব হয়েছেন, নিহত ল্যান্সনায়েক হেমরাজের মা। তাঁর দাবি, তাঁর সন্তানের সঙ্গে যখন এই ঘটনা ঘটেছিল তখনও একইরকম হুঁশিয়ারি দিয়েছিল প্রশাসন। বলা হয়েছিল, এক জওয়ানের নিগ্রহের প্রতিবাদে ১০ পাক জওয়ানের মাথা কেটে আনা হবে। যদিও তা হয়নি। হেমরাজের মা জানাচ্ছেন, সেদিন তাঁর সন্তানের সঙ্গে এ কাজ করেছিল পাক বাহিনী। যত দিন যাচ্ছে তত এ ধরনের ঘটনা তো বেড়েই চলেছে। সরকারের উচিত এবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া। তাঁর অভিযোগ, শহিদের পরিবারকে যে প্রতিশ্রুতি দেয় সরকার, তার একটিও পূরণ করেনি। সন্তান হারানোর কী যন্ত্রণা, তা প্রশাসনের বোঝা উচিত বলেই মনে করেন তিনি।
[ ‘ওরা বাবাকে মেরেছে, ওদের ৫০ জনের মাথা কাটা হোক’ ]
একই ঘটনায় সরব হয়েছেন হেমরাজের ভাইও। তিনি জানাচ্ছেন, প্রতিদিনই কোনও না কোনও জওয়ানের প্রাণ যাচ্ছে। সরকারের উচিত এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। একধাপ এগিয়ে মোদি সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে হেমরাজের এক আত্মীয়। তাঁর দাবি, এই সরকারের আমলে সেনা নিধন বেড়েই চলেছে। অথচ তা রোখার মতো কোনও সঠিক স্ট্র্যাটেজি নিতে নেই সরকারের। পাক সন্ত্রাস রুখতে সরকারের সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে দেশের বিভিন্ন মহলেও। কেন সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের মতো কঠোর পদক্ষেপের পরেও পাক সন্ত্রাসে লাগাম টানা যাচ্ছে না, কেন জওয়ানদের প্রতিদিন প্রাণ বিসর্জন দিতে হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।
The post সন্তান হারানোর যন্ত্রণা বুঝুক সরকার, আর্তি শহিদের মায়ের appeared first on Sangbad Pratidin.
