সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: এমবিবিএসে ভর্তিতে দালাল চক্রের বড় যোগ! এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেটের তদন্তে এমনই বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে বলে সূত্রের খবর। বেশ কিছু কলেজে তল্লাশি চালিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী আধিকারিকরা জানতে পেরেছে, ভুয়ো নথি ব্যবহার করে মেডিক্যাল কলেজগুলি প্রবাসী ভারতীয় কোটাতে ভর্তি করত। যার পিছনে রয়েছে দালাল চক্রের হাত। তদন্তে জানা গিয়েছে, কলেজগুলি জাল নথি তৈরির জন্য দালালদের টাকা দিত। দূতাবাস অনুমোদিত প্রবাসী ভারতীয়ের শংসাপত্র ছাড়াও জাল পারিবারিক বংশতালিকাও ব্যবহার করা হত ডাক্তারি ছাত্রদের ভর্তিতে। যা ওই দালালরা জোগাড় করে দিত বলেই মনে করা হচ্ছে। একাধিক কলেজে তল্লাশিতে ভুয়ো এনআরআই সার্টিফিকেটের পাশাপাশি আমেরিকায় কর্মরত নোটারি অফিসারদের সিলমোহরও উদ্ধার করেছে বলে খবর।
বিদেশমন্ত্রক ও ভারতীয় দূতাবাসগুলির সহায়তায় তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে, প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজগুলি প্রায় ১৮ হাজার ডাক্তারি পড়ুয়াকে ভুয়ো নথি ব্যবহার করে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি করিয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা দিয়েছে, এজেন্ট ও কলেজগুলো একই ধরনের নথি একাধিক প্রার্থীর ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছে। আরও জানা যাচ্ছে, কিছু প্রকৃত প্রবাসী ছাত্রকেও এই চক্রে জড়ানো হয়েছিল। যাদের টাকা দিত এই দালালচক্র। যাতে তাঁদের নাম ব্যবহার করা যায়। নিয়ম অনুযায়ী, প্রবাসী ভারতীয় কোটায় ভর্তি হওয়া ডাক্তারি ছাত্রদের ফি কোনও এনআরআই আত্মীয়কে দিতে হয়। তবে ইডির তদন্তে জানা গিয়েছে, বহু ক্ষেত্রেই সেই নিয়ম মানা হয়নি।
জুলাইতেই ইডি জানিয়েছিল, বাংলা ও ওড়িশায় এনআরআই কোটার আওতায় ছাত্র ভর্তি নিয়ে ব্যাপক দূর্নীতি হয়েছে। বিদেশমন্ত্রক এই নিয়ে প্রমাণও দিয়েছিল। অভিযোগ উঠছে সরকার এই বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির জালিয়াতি নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করেনি। ইডি আরও জানিয়েছে, এমবিবিএসে ভুয়ো ভর্তি মামলায় এর আগের তল্লাশিতে অপরাধের প্রমাণ মিলেছিল। পশ্চিমবঙ্গের একটি বেসরকারি কলেজে অবৈধ ৬ কোটি ৪২ লক্ষ টাকার সন্ধান মিলেছিল। তারও আগে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা কিছু কলেজ ও ব্যক্তির মোট ১২.৩৩ কোটি টাকার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে।
