দেখতে দেখতে একবছর পেরিয়ে গিয়েছে মিরাটের মার্চেন্ট নেভি অফিসার সৌরভ রাজপুতের হত্যার ঘটনার। তাঁকে খুন করে ১৫ টুকরো করে ড্রামে লুকিয়ে রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয় তার স্ত্রী মুসকান রাস্তোগি। একই অপরাধে অভিযুক্ত হয় তার প্রেমিক সাহিল শুক্লাও। এবার আদালত চত্বরে বউমাকে দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন সৌরভের মা। ডুকরে কেঁদে উঠলেন, ''ছেলে ৫০ হাজার দিত, তাও মেরে ফেলল...'' বলে! সেই সঙ্গে আদালতে মুসকান-সাহিলের ফাঁসির দাবিও করলেন।
জেলা আদালতে মুসকানদের বিচার প্রক্রিয়া একেবারে শেষ পর্যায়ে। এদিন প্রথমে সাহিলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর মুসকানকে। প্রথমজনকে ২০ মিনিট এবং দ্বিতীয় জনকে ১৫ মিনিট জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানা গিয়েছে। মুসকানের মুখে ছিল কালো মাস্ক। কোলে সদ্যোজাত শিশুকন্যা। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, ২২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যদান ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এখন চলছে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ।
আদালত চত্বরে বউমাকে দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন সৌরভের মা। ডুকরে কেঁদে উঠলেন, ''ছেলে ৫০ হাজার দিত, তাও মেরে ফেলল...'' বলে! সেই সঙ্গে আদালতে মুসকান-সাহিলের ফাঁসির দাবিও করলেন।
এই পরিস্থিতিতে এদিন সৌরভের মা ও ভাই রাহুল আদালতে উপস্থিত হন। বউমাকে দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বৃদ্ধা। আবেগ সামলে রাখতে পারছিলেন না তিনি। চিৎকার করে জানতে চাইছিলেন, কেন সে এই কাজ করল। তাঁর চিৎকার আদালত চত্বরে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে। এদিকে আদালতে মুসকানদের মৃত্যুদণ্ডের কাতর আর্জিও জানান সন্তানহারা মা।
অভিযোগ, প্রেমিক সাহিল শুক্লার সহযোগিতায় সৌরভকে খুন করে মুসকান। তার সপ্তাহখানেক আগেই অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছিল সে। যদিও ব্যাপারটা প্রথমে সে বুঝতে পারেনি। তার গর্ভস্থ সন্তানের বাবা স্বামী সৌরভ নয় সেব্যাপারেও একপ্রকার নিশ্চিত তদন্তকারীরা। সে মা হতে চলেছে জেনেও কেউ যোগাযোগ করেনি। এমনকী মুসকানের প্রেমিক সাহিল শুক্লার সঙ্গেও তাঁর পরিবারের কেউ সেই থেকে জেলে দেখা করতে আসেনি। পরে গত বছরের শেষে এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেয় মুসকান।
