এআই ইমপ্যাক্ট সামিট। দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নে মোদি সরকারের স্বপ্নের কর্মসূচি। অথচ শুরুর ৩ দিনের মধ্যে দু'দিনই চূড়ান্ত অব্যবস্থা। যার জেরে একদিন ক্ষমা চাইতে হল খোদ কেন্দ্রীয় তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রীকে, আর একদিন ক্ষমা চাইতে হল অংশগ্রহণকারী গালগেটিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়কে।
সোমবার থেকে দিল্লির ভারত মণ্ডপমে শুরু হয়েছে এআই ইমপ্যাক্ট সামিট। অতিথি-অভ্যাগতদের পাশাপাশি বহু মানুষ উপস্থিত হয়েছেন সেই সম্মেলনে। বিরাট এই কর্মসূচি উপলক্ষে দিল্লিতে পা রেখেছেন দেশি-বিদেশি অভ্যাগতরা। কেন্দ্রের দাবি, প্রথম দিনই সম্মেলনে ৭০ হাজার লোক এসেছিলেন। এটাই বিশ্বের বৃহত্তম AI সম্মেলন। অথচ সেই সম্মেলনে দুদিনই লজ্জার মুখে পড়তে হয়েছে কেন্দ্রকে। প্রথম দিন ‘ডিজিটাল ভারতের’ এআই সম্মেলনে কাজ করেনি ওয়াইফাই, ডিজিটাল পেমেন্ট বন্ধ, ইন্টারনেটের হালও তথৈবচ, এছাড়াও সর্বত্র রয়েছে অব্যবস্থার ভয়াবহ চিত্র দেখা গিয়েছে। বেগতিক বুঝে মঙ্গলবার সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে অতিথিদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। মজার কথা হল, এরপরও মঙ্গলবার অব্যবস্থার কিছু ছবি দেখা গিয়েছে।
সবচেয়ে বড় বিতর্ক বুধবারে। এবার নয়ডার গালগোটিয়াস বিশ্ববিদ্যালয় চিনের একটি রোবটকে নিজেদের বলে দাবি করে বসে। ‘ওরিয়ন’ নামক নজরদারি রোবো কুকুর যেটা আসলে চিনের তৈরি সেটিকে নিজেদের বলে দাবি করেছে নয়ডার ওই বিশ্ববিদ্যালয়। একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে গিয়েছে, যেখানে নেহা সিং নাম্নী এক অধ্যাপক দাবি করছেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠাবন ৩৫০ কোটি টাকা খরচ করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে গবেষণায়। তারই ফলশ্রুতি ওই যন্ত্র-সারমেয়। যে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঘুরে বেরিয়ে নিজে নিজেই নজরদারি চালাতে পারবে। আর এতেই হাসির রোল ওঠে। কেননা যে রোবো কুকুর নিয়ে এমন দাবি, তা আসলে চিনা যন্ত্রকুকুর। ‘ইউনিট্রি জিও২’ নামের ওই রোবটটি একটি বাণিজ্যিক পণ্য। দাম ২৮০০ ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় মোটামুটি ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা।
বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর কটাক্ষ ছুঁড়ে দেয় বিরোধী শিবির। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সোশাল মিডিয়ায় বলছেন, “এই এআই সম্মেলনটা আসলে প্রচারে আসার ব্যর্থ চেষ্টা। ভারতের প্রতিভা ও তথ্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার বদলে এই সম্মেলনে ভারতের তথ্য বিক্রি হচ্ছে। আর চিনা পণ্যকে ভারতের বলে দাবি করা হচ্ছে।” বিতর্কের মুখে গালগোটিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর থেকে বিতাড়িত করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সাফাই হিসাবে বলে, তাঁদের প্রচার বিভাগের নেহা সিং ওই রোবট সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতেন না। এমনকী সংবাদমাধ্যমের সামনে তাঁর মুখ খোলার অধিকারও নেই। অতি উৎসাহে ভুল তথ্য দিয়ে ফেলেছেন তিনি। এবার ফের সাফাই দিতে হয় কেন্দ্রকে। এবার ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড ইনফরমেশন মন্ত্রকের সচিব এস কৃষ্ণন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “নিজেদের তৈরি নয়, এমন কিছু দেখানো যাবে না সম্মেলনে। এই সম্মেলনে যা প্রদর্শিত হবে সেটা নিয়ে কোনওরকম বিতর্ক কাম্য নয়। ভুয়ো তথ্য ছড়ানোটা মোটেই বরদাস্ত করা হবে না।”
দু'দিনের এই দুই লজ্জার পর ওই সম্মেলনে আজ ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশবিদেশের বহু অতিথি থাকবেন। আজ নতুন কোনও লজ্জার মুখে না পড়তে হয়, সেটাই আশা আয়োজকদের।
