ভালো পরীক্ষা দিয়েও মনোমত নম্বর মেলেনি। তাই নিজের উত্তরপত্রটা আরও একবার খতিয়ে দেখতে চেয়েছিলেন দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া বেদান্ত। সিবিএসইর পাঠানো উত্তরপত্র দেখে তো তাঁর চক্ষু চড়কগাছ! তাঁর নাম করে যে উত্তরপত্র দেওয়া হয়েছে, সেটা আসলে বেদান্তর নয়। সিবিএসই দ্বাদশ পরীক্ষা ঘিরে এহেন 'দুর্নীতি' প্রকাশ্যে আসতে নড়েচড়ে বসেছে সর্বভারতীয় বোর্ড। গোটা বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও।
গত শনিবার সোশাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন বেদান্ত। জানান, পদার্থবিদ্যায় নম্বর খুবই কম পেয়েছিলেন দ্বাদশের পরীক্ষায়। এত খারাপ পরীক্ষা, বিশ্বাস হয়নি তাঁর। তাই মূল্যায়ন হওয়ার পরে নিজের উত্তরপত্রটি দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বোর্ডের তরফ থেকে পাঠানো উত্তরপত্রে হাতের লেখা দেখেই তিনি বুঝে যান, এটি তাঁর পরীক্ষার খাতা নয়। তারপরেই গোটা বিষয়টি তিনি তুলে ধরেন সোশাল মিডিয়া। ভাইরাল হয় পোস্টটি। অনেক পড়ুয়াই জানান, তাঁরাও একই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন।
বোর্ডের তরফ থেকে জানানো হয়, উত্তরপত্রে গাফিলতি হয়েছে। আপাতত দু'জন পড়ুয়ার প্রাপ্ত নম্বর সংশোধন করা হবে। কিন্তু একাধিক পড়ুয়াই এই সমস্যায় পড়েছে বলে অভিযোগ। তাদের কী হবে? কম নম্বরের বোঝাই বইতে হবে আজীবন?
সাম্প্রতিক অতীতে নিটের প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জলঘোলা হয়েছে। পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে কেন্দ্র, এই নিয়ে সরব হয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। সিবিএসই পরীক্ষার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেও ফের সুর চড়িয়েছেন তিনি। এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, 'মোদি-শাহ জুটি আরও একটা সংস্থাকে চুরির প্রতীক বানিয়ে ফেলেছে। গত কয়েক দশকে এই প্রথমবার সিবিএসই পরীক্ষা নিয়ে এমন গুরুতর অভিযোগ উঠছে। ১৭ বছরের একটা বাচ্চা তার কম নম্বর পাওয়া নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তুলছে, আর বিজেপির আইটি সেল তাকে দেশবিরোধী তকমা দিচ্ছে। তবে মোদিজী শুনে রাখুন, এই জেন জি-র তরুণরাই আপনার অহংকার ভাঙবে।'
সোশাল মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়ে হইচই হতেই সিবিএসই মুখ খুলেছে। অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয়। শেষ পর্যন্ত বোর্ডের তরফ থেকে জানানো হয়, উত্তরপত্রে গাফিলতি হয়েছে। আপাতত দু'জন পড়ুয়ার প্রাপ্ত নম্বর সংশোধন করা হবে। কিন্তু একাধিক পড়ুয়াই এই সমস্যায় পড়েছে বলে অভিযোগ। তাদের কী হবে? কম নম্বরের বোঝাই বইতে হবে আজীবন?
