তরমুজ খাওয়ার পরে মৃত্যু (Mumbai Watermelon Deaths) হয়েছিল একই পরিবারের ৪ জনের। এরপরেই হঠাৎ নবি মুম্বইয়ের তরমুজের দাম ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছে। গরমকালে তরমুজের দামে এত ব্যাপক পতন সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায়নি। জানা গিয়েছে, তরমুজের চাহিদা ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছে। নবি মুম্বইয়ের এপিএমসি ফল বাজারে ৫ থেকে ৭ টাকা কেজি দরে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ মুম্বইয়ের বাসিন্দা আবদুল্লাহ দোখাদিয়া (৪০), তাঁর স্ত্রী নাসরিন (৩৫) এবং দুই মেয়ে আয়েশা (১৬) ও জয়নাব (১৩) গত শনিবার রাতে বাড়িতে আত্মীয়দের সঙ্গে খাওয়াদাওয়া করেন। তারপর গভীর রাতে তাঁরা তরমুজ খান। এরপরই তাঁদের ব্যাপক বমি ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারজনের মৃত্যু হয়। জানা গিয়েছে, খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই তরমুজের চাহিদা কমতে থাকে। এরপরই নবি মুম্বইয়ে তরমুজের দাম ব্যাপকভাবে কমে যায়।
তরমুজ গ্রীষ্মকালে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ফল। কিন্তু তা সত্ত্বেও নবি মুম্বইয়ে ব্যাপকভাবে এই ফলের দাম কমে গিয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সাধারণত পাইকারি বাজারে তরমুজের দাম থাকে কেজি প্রতি ১০ থেকে ৩৫ টাকা। খুচরো বাজারে তরমুজের দাম থাকে ৩০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে। কিন্তু তরমুজ খেয়ে একই পরিবারের চার সদস্যদের মৃত্যুর ঘটনার পর এই ফলের চাহিদা কমে গিয়েছে। এর ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তাঁরা। বর্তমানে কেজি প্রতি ৫-৭ টাকা বিকোচ্ছে তরমুজ। মনে করা হচ্ছে, ক্রেতাদের মধ্যে তরমুজ নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সেই কারণে চাহিদা ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছে।
মঙ্গলবার, ফরেনসিক দল মৃতদের বাড়িতে গিয়ে খাবারের নমুনা সংগ্রহ করেছে। জানা গিয়েছে, চিকেন পোলাও, তরমুজ, জলসহ অন্যান্য খাবারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এই নমুনাগুলি পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণেই চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এটি শুধুমাত্র বিষক্রিয়ার ঘটনা নাকি অন্য কোনও কারণও রয়েছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি পরিবারটি কোনও মানসিক চাপের মধ্যে ছিল কি না তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবারের কোনও আর্থিক সমস্যা ছিল কি না তা দেখতে আবদুল্লাহ দোখাদিয়ার ব্যাঙ্ক লেনদেন দেখা হচ্ছে। এছাড়াও, দোখাদিয়ার বাড়িতে সেদিন যে সব আত্মীয়রা এসেছিলেন তাঁদের মধ্যে পাঁচজনের বয়ান নেওয়া হয়েছে। তাঁরা জানিয়েছেন, সকলেই পোলাও খেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁদের কারও শরীর খারাপ হয়নি।
