ইদের দিন একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ ছিল। সেই অভিযুক্তকে এবার এনকাউন্টার করল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। জানা গিয়েছে, শনিবার গভীর রাতে অভিযুক্তের সন্ধান মেলে। পুলিশের সঙ্গে গুলির লড়াই শুরু হয়। ঘটনাস্থলেই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে যোগী আদিত্যনাথের পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার। সেদিন ছিল বকরি ইদ। গাজিয়াবাদের খোড়া এলাকায় ১৭ বছর বয়সি সূর্যপ্রতাপ চৌহান নামে একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপানোর অভিযোগ ওঠে আসাদ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপ মারার পর দলবল নিয়ে এলাকা থেকে পালিয়ে যায় আসাদ। গুরুতর জখম অবস্থায় সূর্যপ্রতাপকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। সেখানেই মৃত্যু হয় ১৭ বছরের কিশোরের। গোটা ঘটনায় ফুঁসে ওঠেন এলাকাবাসী। বেশ কয়েকটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন প্রতিবাদে সরব হন। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারির দাবিতে সুর চড়ান তাঁরা।
পুলিশের তরফে অভিযুক্ত হিসাবে পাঁচজনের নাম প্রকাশ করা হয়। ঘটনার পরই গ্রেপ্তার করা হয় তিন অভিযুক্তকে। তবে মূল অভিযুক্ত আসাদ ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিল। পুলিশের একাধিক টিম গঠন করা হয় আসাদের তল্লাশিতে। ৫০ হাজার টাকা মাথার দামও ধার্য করা হয়। শনিবার গোপন সূত্রে পুলিশের কাছে খবর আসে, এলাকা ছাড়ার পরিকল্পনা করছে আসাদ। তাকে আটকাতে একাধিক জায়গায় বসানো হয় ব্যারিকেড। শুরু হয় চিরুনিতল্লাশি। সেসময়েই বাইকের পিছনে বসা আসাদের খোঁজ মেলে।
পুলিশের নজর পড়তেই গুলি চালাতে শুরু করে আসাদ। পালটা দেয় বাহিনীও। খানিকক্ষণ গুলির লড়াই চলার পর আহত অবস্থায় আসাদকে পাকড়াও করা হয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। জানা গিয়েছে, গুলির লড়াইয়ে আহত হয়েছেন এক পুলিশকর্মীও। আসাদের সঙ্গী অবশ্য এনকাউন্টারের সময় ফের পালিয়েছে। আপাতত তার খোঁজে চলছে তল্লাশি। সূর্যপ্রতাপের মা বলছেন, আসাদের যা পরিণতি হয়েছে অন্য অভিযুক্তদেরও যেন ঠিক সেভাবেই শাস্তি দেওয়া হয়।
