দিনকয়েক আগেই এশিয়ান গেমসের যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন। তারপর সতীর্থের হাতে খুন হলেন প্যারা অ্যাথলিট! শনিবার দুপুরে গাজিয়াবাদে উদ্ধার হয় প্যারা অ্যাথলিট চিরাগ ত্যাগীর দেহ। তাঁর দেহে মিলেছে বুলেটের আঘাতের চিহ্ন। তারপর সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আরও এক প্যারা অ্যাথলিটকে আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে অনুমান, হিংসার জেরেই খুন হয়েছেন চিরাগ।
সম্প্রতি জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ৪০০ মিটার দৌড়ে সোনা জিতেছিলেন চিরাগ। সেইসঙ্গে পেয়ে যান এশিয়াডে নামার ছাড়পত্র। দেশের অন্যতম প্রতিভাবান প্যারা অ্যাথলিট ছিলেন চিরাগ। গত বুধবার বাড়ি থেকে বেরিয়ে হস্টেলে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু বাড়ি থেকে বেরনোর পর পরিবারের সদস্যরা আর যোগাযোগ করতে পারেননি চিরাগের সঙ্গে। উদ্বিগ্ন হয়ে পুলিশে খবর দেন তাঁরা। অবশেষে শনিবার উদ্ধার হয়েছে চিরাগের দেহ। একাধিক বুলেটের আঘাত রয়েছে তাঁর দেহে।
তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ। সেখান থেকেই যশ খাটিক নামে আরেক প্যারা অ্যাথলিটের নাম উঠে আসে সন্দেহভাজনের তালিকায়। ফুটেজ দেখেই তাঁকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, পেশাগত ঈর্ষা থেকেই যশ হত্যা করেছেন চিরাগকে। জানা গিয়েছে, একটা সময়ে দু'জন প্যারা অ্যাথলিট একসঙ্গে অনুশীলন করতেন। কিন্তু কিছুদিন আগে যশের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন চিরাগ। জানান, যশের নথিপত্রে কোনও সমস্যা রয়েছে। তার জেরে ডিসকোয়ালিফাই করা হয় যশকে।
সেখান থেকেই সম্ভবত প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছিলেন যশ। জেরার পর পুলিশের মত, নির্জন স্থানে চিরাগকে ডেকে আনেন যশ। তারপর গুলি করে খুন করেন একসময়ের সতীর্থকে। দীর্ঘ সময় ধরে জেরার পর যশকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চিরাগের দেহ পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য। তবে ঘাতক পিস্তলটি এখনও উদ্ধার হয়নি। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। উল্লেখ্য, চলতি বছরের অক্টোবরে জাপানে এশিয়ান প্যারা গেমস আয়োজিত হবে। সেখানে পদক জেতার অন্যতম দাবিদার ছিলেন চিরাগ। কিন্তু প্রতিশোধের আগুনে শেষ হয়ে গেল সেই উজ্জ্বল সম্ভাবনা।
