এনডিএ সার্বিকভাবে আগেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেরিয়েছে। এবার রাজ্যসভায় এককভাবে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে বিজেপি। সদ্যই শেষ হয়েছে ১০ রাজ্যের ৩৭ আসনে রাজ্যসভার নির্বাচন। এর মধ্যে ২৬ আসনে ফলাফল হয়েছে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। নির্বাচন হয়েছিল ১১ আসনে। সেগুলির মধ্যেও সিংহভাগ জিতেছে এনডিএ।
সব মিলিয়ে ৩৭ আসনের মধ্যে ২২টিতে জিতেছে এনডিএ। বিরোধীদের দখলে গিয়েছে ১৫টি আসন। সদ্য যে ১০ রাজ্যের ৩৭ আসনে নির্বাচন হয়েছে সেগুলি হল মহারাষ্ট্র (৭), ওড়িশা (৪), তামিলনাড়ু (৬), পশ্চিমবঙ্গ (৫), অসম (৩), বিহার (৫), ছত্তিশগড় (২), হিমাচল(১), তেলেঙ্গানা (২) ও হরিয়ানা (২)। এই রাজ্যগুলির মধ্যে মহারাষ্ট্রে ২০২০ সালে বিজেপির চেয়ে বেশি আসন পেয়েছিল বিরোধী জোট। এবার পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গিয়েছে। সাতটির মধ্যে ছ'টিই এখন বিজেপির দখলে। ওড়িশার ৪ আসনের মধ্যেও ৩টি জিতেছে বিজেপি। তামিলনাড়ুতে অবশ্য ইন্ডিয়া জোটেরই দাপট ছিল। বাংলাতেও দাপট দেখিয়েছে তৃণমূল। অসমেও বিজেপি ও শরিকরা ৩ আসনের ৩টিই জিতেছে। বিহারে পাঁচ আসনের পাঁচটিই গিয়েছে এনডিএর দখলে। হিমাচল ও তেলেঙ্গানায় কংগ্রেসের দখলে গিয়েছে আসনগুলি।
এখন প্রশ্ন হল, এর ফলে রাজ্যসভার সমীকরণ কতটা বদলাল? ২৪৫ আসনের মধ্যে ভোটের আগে বিজেপির হাতে ছিল ১০৬ জন সাংসদ। এনডিএ’র সম্মিলিত আসনসংখ্যা ১৩৫। যা ম্যাজিক ফিগারের চেয়ে কিছুটা হলেও বেশি। এবার সেই সংখ্যাটা আরও অনেক বাড়ল। রাজ্যসভা ভোটের পর এনডিএ-র সাংসদ সংখ্যা দাঁড়াল ১৪১। একা বিজেপির সাংসদ সংখ্যা দাঁড়াল ১০৬। ২৫০ আসনের রাজ্যসভায় ম্যাজিক ফিগার এমনিতে ১২৬। তবে এই মুহূর্তে কয়েকটি আসন ফাঁকা থাকাই সেটা আরও খানিকটা নেমেছে। অর্থাৎ আরও ১৫-১৮ আসন পেলে একাই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বিজেপি। এ বছরের শেষের দিকে আরও ৩৪ আসনের নির্বাচন হওয়ার কথা। সেসময় বিজেপির সংখ্যাটা বেড়ে ১১৫ পর্যন্ত উঠে যেতে পারে। সার্বিকভাবে দেড়শো ছুঁয়ে ফেলতে পারে এনডিএ।
এদিকে কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের অবস্থা সংকটজনক। ভোটের আগে শিবিরের সাংসদ সংখ্যা ছিল ৬২। এর মধ্যে ২৭টি কংগ্রেসের। তৃণমূলের ১২ এবং বিজেপির ১০ আসন রয়েছে। হিসাব বলছে, এবারের ভোটের পর এই সংখ্যাটা আরও কমে ৫৮ হয়ে গেল। তবে দল হিসাবে কংগ্রেসের দুটি আসন বেড়ে ২৯ হয়েছে। ফলে প্রধান বিরোধী দলের তকমা ধরে রাখছে কংগ্রেস।
