shono
Advertisement
Mamata Banerjee

মমতার জন্যই ধ্বংস ইন্ডিয়া জোট, নীতীশের এনডিএ যোগের নেপথ্যেও কালীঘাট! প্রকাশ্যে রিপোর্ট

ইন্ডিয়া জোট এবং সেখানে সকলের দাবি দাওয়া নিয়ে কংগ্রেস-সহ সব দলের মধ্যে সম্মতির জায়গা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে এই জোটে জল ঢালেন দুই নেতৃত্ব।
Published By: Amit Kumar DasPosted: 10:25 PM Jun 06, 2026Updated: 10:25 PM Jun 06, 2026

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগে সকলে চমকে দিয়ে এনডিএ-তে যোগ দিয়েছিলেন নীতীশ কুমার। সেই সময় তাঁকে ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম পুরোধা বলে গণ্য করা হচ্ছিল। ঘটনার ২ বছর পর অবশেষে সামনে এল কেন সেই সময় ইন্ডিয়া ছেড়ে মোদির হাত ধরেছিলেন নীতীশ। জানা যাচ্ছে, ইন্ডিয়া জোটের পতন ও নীতীশের এনডিএ যোগের নেপথ্যে ছিলেন তৎকালীন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দোসর হয়েছিলেন আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। অতীতের সেই রহস্য এবার উন্মোচন করলেন নীতীশের জনতা দল ইউনাইটেডের কার্যকরী জাতীয় সভাপতি সঞ্জয় ঝাঁ।

Advertisement

সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ২০২৩-২০২৪ সালে জাতীয় রাজনীতির বিরাট পট পরিবর্তন নিয়ে মুখ খোলেন সঞ্জয়। তিনি বলেন, ইন্ডিয়া জোট এবং সেখানে সকলের দাবি দাওয়া নিয়ে কংগ্রেস-সহ সব দলের মধ্যে সম্মতির জায়গা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে এই জোটে জল ঢালেন দুই নেতৃত্ব। সঞ্জয়ের কথায়, "দুই নেতৃত্ব ইন্ডিয়া জোটকে ধ্বংস করে দেন। তাঁরা হলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অরবিন্দ কেজরিওয়াল। ২০২৩ সালের শুরুর দিকে জোটের সকল নেতাদের মধ্যে ঐক্যমত তৈরি হয়েছিল। আমি বলছি না যে নীতীশ কুমারকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী করা হবে, কিন্তু একটি সমঝোতা হয়েছিল যে নীতীশ জোটের 'আহ্বায়ক' হবেন। কংগ্রেসও এতে রাজি হয়েছিল।"

দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের সভার পর নীতীশের তরফে বিরোধী জোটের মোহ কেটে যায়। তিনি বাধ্য হন এনডিএ-তে যোগ দিতে।

সঞ্জয় আরও বলেন, সেই সময় দিল্লি বা মুম্বইয়ে কোনও একটি বৈঠকে ষড়যন্ত্র করে মমতা ও কেজরিওয়াল যৌথভাবে একটি প্রস্তাব পেশ করেন। তাঁদের প্রস্তাব ছিল, জোটের আহ্বায়ক হবেন একজন দলিত নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে। এই প্রস্তাবে কংগ্রেস কোণঠাসা হয়ে পড়ে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। নীতীশ কুমার যে আহ্বায়কের পদ চেয়েছিলেন, তা নয়। কিন্তু সিদ্ধান্ত হয়ে যাওয়ার পর তা পরিবর্তন করা ওদের উচিত হয়নি। মাত্র দু'জন ব্যক্তি পুরো জোটটা ভেঙে দেয়। জেডিইউ নেতা আরও বলেন, জোটে কোনও ঐক্যমত ছিল না। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে শুরু করে।

জেডিইউ নেতার আরও দাবি, ওই সময়কালে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার এনডিএ-র সঙ্গ ছেড়ে কোমর বেঁধে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সমস্ত বিরোধী দলকে এক ছাতার নিচে আনতে নীতীশ ব্যক্তিগতভাবে উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি রাজ্যে গিয়েছিলেন, নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তাঁর উদ্যোগেই ২০২৩ সালের ২৩শে জুন পাটনায় ইন্ডিয়া জোটের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সকলে যখন মোদি সরকারকে হঠাতে একমত হয়, সেখানে একমাত্র সমস্যা হয়ে ওঠেন মমতা ও কেজরিওয়াল। সঞ্জয়ের মতে, দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের সভার পর নীতীশের তরফে বিরোধী জোটের মোহ কেটে যায়। তিনি বাধ্য হন এনডিএ-তে যোগ দিতে।

বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসকে আসন ছাড়তে অস্বীকার করেন, অন্যদিকে পাঞ্জাবে অরবিন্দ কেজরিওয়ালও একই পথ অনুসরণ করেন।

যার ফল, ২০২৪ সালের ২৮শে জানুয়ারি, নীতীশ কুমার বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং মহাজোট সরকার ভেঙে যায়। এর পরে, বিজেপি নীতীশকে সমর্থন জানায় এবং বিরোধী জোটের মুখ হয়ে ওঠা নীতীশ আবারও এনডিএ জোটের যোগ দেন। নয়া রূপে ফিরে ইন্ডিয়া জোটের বিরুদ্ধে চরম আক্রমণ শানান নীতীশ। তাঁর বার্তা স্পষ্ট ছিল, জোটের মধ্যে দলাদলি চরমে উঠেছে। এই জোট ভাঙতে বাধ্য। বলার অপেক্ষা রাখে না, নীতীশের ইন্ডিয়া ত্যাগের পর বিরোধী জোট দুর্বল হয়ে পড়ে। বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসকে আসন ছাড়তে অস্বীকার করেন, অন্যদিকে পাঞ্জাবে অরবিন্দ কেজরিওয়ালও একই পথ অনুসরণ করেন। দিল্লিতে কংগ্রেস ও আপ একসঙ্গে থাকলেও পাঞ্জাবে এই ঘটনা বিরোধী জোটের বিশ্বাসযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর ভারতীয় জনতা পার্টি বড় ধাক্কা খেলেও, বিরোধী দলগুলির হালও খুব একটা ভালো ছিল না। অন্যদিকে, নীতীশ হয়ে ওঠেন তৃতীয় মোদি সরকারের এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement