বিজেপি ঘুরে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু চারমাসের মধ্যেই মোহভঙ্গ। এবার রাজনীতিই ছেড়ে দিলেন নেতাজির প্রপৌত্র চন্দ্র বসু! সোমবার তিনি ঘাসফুল শিবির থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। বিজেপি ছাড়ার পর তিনি দাবি করেছিলেন, গেরুয়া শিবিরে যাওয়াটা ভুল হয়েছিল। এবার তৃণমূল ছাড়ার কোনও কারণ আলাদা করে উল্লেখ করেননি। দাবি করেছেন, ব্যক্তিগত কারণে তিনি তৃণমূল ছাড়ছেন।
বিধানসভা ভোটের মুখে বঙ্গ রাজনীতিতে বড় চমক দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন চন্দ্র বসু। তার আগে এসআইআরের শুনানিতে ডাক পাওয়ার পরই কার্যত কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দলের প্রতি মোহভঙ্গ হয়েছিল তাঁর। প্রশ্ন তুলেছিলেন, নেতাজির মতো দেশনায়কের প্রপৌত্র হওয়ার পরও কি তাঁর নাগরিকত্ব নিয়ে সংশয় তৈরি হয়? তৃণমূলে যোগ দিয়ে তিনি বলেছিলেন, ”কয়েক বছর আগে আমি ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করে ঐতিহাসিক ভুল করেছিলাম। সেই ভুল আমি আজ সংশোধন করে নিলাম।”
বিজেপি ছাড়ার সময়ে চন্দ্র বসু জানিয়েছিলেন, “২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলাম। সকলকে একসঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চলার যে আদর্শ ছিল বোসদের মধ্যে, সেটাই বিজেপির মাধ্যমে এগিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। এমনকি নেতাজির আদর্শ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিজেপির মধ্যেই আজাদ হিন্দ মোর্চা শুরু করারও কথা ছিল। কিন্তু এখনও সেসব কিছুই হয়নি।” ২০১৬ বিধানসভা এবং ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে লড়েছিলেন চন্দ্র বসু। কিন্তু জিততে পারেননি। চার বছর ধরে বঙ্গ বিজেপি সহ-সভাপতি ছিলেন। ২০২০ সালে তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
চলতি বছর বিধানসভা ভোটের ঠিক আগে তৃণমূলে যোগ দেন। কিন্তু ভোটের টিকিট পাননি। ভোটের ফল ঘোষণার ঠিক তিনমাস পর সোমবার মাত্র দু'লাইনের চিঠি লিখে তৃণমূল ছাড়লেন চন্দ্র বসু। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লেখা চিঠিতে জানান, অবিলম্বে তৃণমূল ছাড়ছেন তিনি। ব্যক্তিগত কারণেই এমন সিদ্ধান্ত। তৃণমূলকে আগামী দিনের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নেতাজির প্রপৌত্র। তাহলে কি তিনি রাজনীতিই ছেড়ে দিচ্ছেন? নাকি আগামী দিনে অন্য কোনও দলে দেখা যাবে তাঁকে? সেসব কিছুই জানা যাচ্ছে না।
